ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁদের স্বজন ও সহকর্মীরা। দেবাশীষের বাবা দিলীপ দত্ত ও মা স্বপ্না দত্ত কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। ছেলেকে শেষবারের মতো দেখতে চান তাঁরা। তাঁদের দাবি, দ্রুত যেন দেবাশীষ, তাঁর স্ত্রী ও নাতিসহ চারজনের মরদেহ দেশে আনা হয়।
এদিকে বাড়িতে থাকা দেবাশীষের আট বছর বয়সী মেয়ে মহিমা দত্ত এখনো বুঝতে পারছে না, তাঁর বাবা দেবাশীষ, মা আফসানা শিম্মিন ও ছোট ভাই শর্ণশীষ দত্ত আর নেই। আর কখনোই বাবা-মা ও ভাইয়ের দেখা পাবে না সে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ায় দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে আত্মীয়স্বজনের ভিড়। তাঁরা পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন। বাড়ির দ্বিতীয় তলার বারান্দায় প্রতিদিনের মতোই খেলছিল দেবাশীষের মেয়ে মহিমা দত্ত। দেবাশীষ তাঁকে ‘পাখি’ বলে ডাকতেন।
বারান্দা থেকেই পরিচিত সমবয়সীদের ডেকে মহিমা বলছিল, ‘কখন খেলবা? বিকেলে চলে এসো আমাদের বাসায়। একসাথে খেলবো।’
দেবাশীষ দত্তের আত্মীয় ও ভারতে অবস্থানরত চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা কৃষ্ণ নন্দীর বরাত দিয়ে দেবাশীষের সহকর্মী স্টার নিউজের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম জানান, কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মরদেহ বর্তমানে কলকাতা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।
মরদেহ শনাক্তকরণের কাগজপত্রসহ ময়নাতদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র পেতে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র কলকাতার নিউমার্কেট থানায় পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র পাওয়ার পর ময়নাতদন্ত শুরু হবে।
জহুরুল ইসলাম আরও জানান, কলকাতা মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ-সংক্রান্ত সব কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে দেবাশীষসহ পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হবে।
ভারতে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে মরদেহ দেশে ফেরানোর অপেক্ষায় রয়েছেন দেবাশীষের স্বজন ও সহকর্মীরা।
কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন নিহত
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ও আগুনে পুড়ে ৯ জন বাংলাদেশি নিহত হন। তাঁদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন রয়েছেন।
নিহত চারজন হলেন কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত (৩৭), তাঁর স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), দুই বছর বয়সী শিশুপুত্র শর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ার বাসিন্দা আকরাম আলী (৬৪)।
গত ৩ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভারতে যান দেবাশীষ দত্ত। প্রথমে তাঁরা বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা নেন। প্রায় ১৩ দিন পর সোমবার রাতে কলকাতায় ফিরে মঙ্গলবার সকাল থেকে আত্মীয়স্বজনের জন্য কেনাকাটা করেন। বুধবার সকালে তাঁদের দেশে ফেরার কথা ছিল।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























