Dhaka ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনাম
মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের পাশে নাগরিক উদ্যোগ নিল বিএমইউ বুয়েটের ডিগ্রি, ছেড়েছেন লোভনীয় চাকরি—প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষক নায়লা শারাফ ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গাপূজার ছুটি বাড়ল এক দিন, ২০–২৪ অক্টোবর টানা ছুটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে ২০২৬ সালের নোবেল পেলেন ডেইসেরথ, হেগেম্যান ও নাগেল বিসিআইসির চেয়ারম্যান হলেন অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিঞা শিক্ষকতা ‘উপায়হীন বিকল্প’ নয়, মেধাবীদের প্রথম পছন্দ করতে হবে: তারেক রহমান ধানমন্ডিতে যাত্রা শুরু করল আকিজ ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডারে ২৫২ টাকা বাড়ল, নতুন দাম ১,৮৩৭ টাকা ডিআইজি-অতিরিক্ত ডিআইজিসহ পুলিশের ২৪ কর্মকর্তাকে বদলি

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিআইএন শর্ত শিথিলের প্রস্তাব, সুযোগ নেই বলছে এনবিআর

ব্যবসার ব্যাংক হিসাব খোলা ও ব্যবসা সম্প্রসারণে ঋণ নিতে এখন বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবসায়িক শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) দেখাতে হচ্ছে। চলতি অর্থবছর থেকে কার্যকর হওয়া এ শর্তে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তারা। এ ধরনের অনেক উদ্যোক্তার বিআইএন না থাকায় দৈনন্দিন ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ ও নতুন ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ অর্থনৈতিক ইউনিট রয়েছে। এর প্রায় ৯৯ শতাংশই ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি ধরনের ব্যবসা। এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন ৩ কোটির বেশি মানুষ। শিল্প খাতে কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশের সঙ্গে এই খাত যুক্ত। এ ছাড়া দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) সিএমএসএমই খাতের অবদান ২৫ থেকে ৩২ শতাংশ।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের এই সমস্যা বিবেচনায় বিআইএনের বাধ্যবাধকতা শিথিল বা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছে ব্যাংকারদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে এ বিষয়ে দেওয়া এক চিঠিতে সংগঠনটি বলেছে, অনেক ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তার এখনো বিআইএন নেই। নতুন করে নিবন্ধন করতে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ ও প্রক্রিয়া শেষ করতেও সময় লাগছে। এর ফলে দৈনন্দিন ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ এবং নতুন ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন।

এবিবি ক্ষুদ্র, কুটির ও অতিক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিআইএনের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। সেটি সম্ভব না হলে পর্যায়ক্রমে নিয়মটি কার্যকর করা এবং প্রস্তুতির জন্য উদ্যোক্তাদের বাড়তি সময় দেওয়ার অনুরোধ করেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি ব্যাংকে থাকা উদ্যোক্তাদের বিদ্যমান তথ্য ও নথিকে সহায়ক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

তবে এবিবির এই অনুরোধ বিবেচনার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে এনবিআর। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, এটি এনবিআরের নিজস্ব কোনো শর্ত নয়; আইনেই এর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ৪(৩)(ক) ও (খ) ধারায় ব্যবসার জন্য চলতি বা এসটিডি হিসাব খোলা ও পরিচালনা এবং ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিআইএন উপস্থাপনের বিধান রয়েছে।

এনবিআরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, নিয়মটি ছোট, মাঝারি কিংবা বড়—সব ধরনের ব্যবসার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এর উদ্দেশ্য হলো ব্যবসাকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনা এবং কর ও ভ্যাট ব্যবস্থার আওতা বাড়ানো। ফলে ব্যাংক বা এনবিআর নিজেদের সিদ্ধান্তে এ শর্ত বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।

অবশ্য উদ্যোক্তাদের আপত্তি মূলত নিয়মটির উদ্দেশ্য নিয়ে নয়, বরং এর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা শাহ পরান বলেন, বিআইএনের জন্য অনলাইনে আবেদন করা গেলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করাই বড় সমস্যা। প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন নথি ও অতিরিক্ত খরচের কারণে অনেক উদ্যোক্তাকে দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়। তাঁর মতে, নিয়মটি একসঙ্গে কঠোরভাবে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হলে উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ হবে এবং চাপও অনেকটা কমবে।

বিআইএন বাধ্যতামূলক করায় ভ্যাটের আওতা বাড়বে। তবে এতে ক্ষুদ্র ব্যবসার ব্যাংকিং ও ঋণ নেওয়ার পথে যেন বাড়তি বাধা তৈরি না হয়, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের পাশে নাগরিক উদ্যোগ নিল বিএমইউ

04 October 2026

ডিআইজি-অতিরিক্ত ডিআইজিসহ পুলিশের ২৪ কর্মকর্তাকে বদলি

www.hostbuybd.com

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিআইএন শর্ত শিথিলের প্রস্তাব, সুযোগ নেই বলছে এনবিআর

Update Time : ০৭:১৩:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

ব্যবসার ব্যাংক হিসাব খোলা ও ব্যবসা সম্প্রসারণে ঋণ নিতে এখন বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবসায়িক শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) দেখাতে হচ্ছে। চলতি অর্থবছর থেকে কার্যকর হওয়া এ শর্তে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তারা। এ ধরনের অনেক উদ্যোক্তার বিআইএন না থাকায় দৈনন্দিন ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ ও নতুন ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ অর্থনৈতিক ইউনিট রয়েছে। এর প্রায় ৯৯ শতাংশই ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি ধরনের ব্যবসা। এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন ৩ কোটির বেশি মানুষ। শিল্প খাতে কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশের সঙ্গে এই খাত যুক্ত। এ ছাড়া দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) সিএমএসএমই খাতের অবদান ২৫ থেকে ৩২ শতাংশ।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের এই সমস্যা বিবেচনায় বিআইএনের বাধ্যবাধকতা শিথিল বা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছে ব্যাংকারদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে এ বিষয়ে দেওয়া এক চিঠিতে সংগঠনটি বলেছে, অনেক ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তার এখনো বিআইএন নেই। নতুন করে নিবন্ধন করতে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ ও প্রক্রিয়া শেষ করতেও সময় লাগছে। এর ফলে দৈনন্দিন ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ এবং নতুন ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন।

এবিবি ক্ষুদ্র, কুটির ও অতিক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিআইএনের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। সেটি সম্ভব না হলে পর্যায়ক্রমে নিয়মটি কার্যকর করা এবং প্রস্তুতির জন্য উদ্যোক্তাদের বাড়তি সময় দেওয়ার অনুরোধ করেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি ব্যাংকে থাকা উদ্যোক্তাদের বিদ্যমান তথ্য ও নথিকে সহায়ক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

তবে এবিবির এই অনুরোধ বিবেচনার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে এনবিআর। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, এটি এনবিআরের নিজস্ব কোনো শর্ত নয়; আইনেই এর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ৪(৩)(ক) ও (খ) ধারায় ব্যবসার জন্য চলতি বা এসটিডি হিসাব খোলা ও পরিচালনা এবং ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিআইএন উপস্থাপনের বিধান রয়েছে।

এনবিআরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, নিয়মটি ছোট, মাঝারি কিংবা বড়—সব ধরনের ব্যবসার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এর উদ্দেশ্য হলো ব্যবসাকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনা এবং কর ও ভ্যাট ব্যবস্থার আওতা বাড়ানো। ফলে ব্যাংক বা এনবিআর নিজেদের সিদ্ধান্তে এ শর্ত বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।

অবশ্য উদ্যোক্তাদের আপত্তি মূলত নিয়মটির উদ্দেশ্য নিয়ে নয়, বরং এর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা শাহ পরান বলেন, বিআইএনের জন্য অনলাইনে আবেদন করা গেলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করাই বড় সমস্যা। প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন নথি ও অতিরিক্ত খরচের কারণে অনেক উদ্যোক্তাকে দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়। তাঁর মতে, নিয়মটি একসঙ্গে কঠোরভাবে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হলে উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ হবে এবং চাপও অনেকটা কমবে।

বিআইএন বাধ্যতামূলক করায় ভ্যাটের আওতা বাড়বে। তবে এতে ক্ষুদ্র ব্যবসার ব্যাংকিং ও ঋণ নেওয়ার পথে যেন বাড়তি বাধা তৈরি না হয়, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

Share this news as a Photo Card