Dhaka ১১:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনাম
বিয়ে নিয়ে কেয়া পায়েলের ভাবনা, জীবনসঙ্গী হিসেবে চান বিশ্বাস ও সম্মান জনকল্যাণমূলক কাজে সরকারকে সহযোগিতা করবে জামায়াত: গোলাম পরওয়ার মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের পাশে নাগরিক উদ্যোগ নিল বিএমইউ বুয়েটের ডিগ্রি, ছেড়েছেন লোভনীয় চাকরি—প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষক নায়লা শারাফ ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গাপূজার ছুটি বাড়ল এক দিন, ২০–২৪ অক্টোবর টানা ছুটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে ২০২৬ সালের নোবেল পেলেন ডেইসেরথ, হেগেম্যান ও নাগেল বিসিআইসির চেয়ারম্যান হলেন অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিঞা শিক্ষকতা ‘উপায়হীন বিকল্প’ নয়, মেধাবীদের প্রথম পছন্দ করতে হবে: তারেক রহমান ধানমন্ডিতে যাত্রা শুরু করল আকিজ ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার

ছয় ঘণ্টার কম ঘুমে বাড়তে পারে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি

বেশি কাজ করার জন্য ঘুম বাদ দেওয়া সাময়িকভাবে নিরীহ মনে হতে পারে। তবে নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর ধীরে ধীরে চাপ তৈরি করতে পারে। ধারাবাহিকভাবে প্রতি রাতে ছয় ঘণ্টার কম ঘুমানোর সঙ্গে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। ঘুম শুধু বিশ্রামের জন্য নয়, শরীরের এমন অনেক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে। তাই দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।

ছয় ঘণ্টার কম ঘুমানোর ঝুঁকি

নিয়মিত ছয় ঘণ্টার কম ঘুমালে ধীরে ধীরে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে—

  • উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বৃদ্ধি;
  • করোনারি আর্টারি ডিজিজের ঝুঁকি বৃদ্ধি;
  • অনিয়মিত হৃদ্‌স্পন্দনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি;
  • স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি;
  • টাইপ ২ ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা বৃদ্ধি, যা নিজেই কার্ডিওভাসকুলার ঝুঁকি বাড়ায়;
  • ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতার সম্ভাবনা বৃদ্ধি, যা উভয়ই হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

এটি শুধু চিকিৎসকদের মতামত নয়। ২০২৪ সালে ‘আমেরিকান জার্নাল অব প্রিভেন্টিভ কার্ডিওলজি’-তে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কম ঘুমের সঙ্গে হৃদ্‌রোগজনিত মৃত্যু, কার্ডিওমেটাবলিক ঝুঁকি ও করোনারি আর্টারি ডিজিজের শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে।

অপর্যাপ্ত ঘুম কীভাবে হৃদ্‌যন্ত্রকে প্রভাবিত করে

অপর্যাপ্ত ঘুম শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে পারে। সাধারণত গভীর ঘুমের সময় রক্তচাপ কিছুটা কমে যায়। নিয়মিত এই স্বাভাবিক হ্রাস না ঘটলে ধীরে ধীরে দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে।

কম ঘুম কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে রক্তনালি ও হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যকারিতা প্রভাবিত হয়।

ঘুমের অভাব শরীরে প্রদাহ বাড়ার সঙ্গেও সম্পর্কিত। প্রদাহ ধমনির ক্ষতি এবং হৃদ্‌রোগের একটি পরিচিত কারণ।

অপর্যাপ্ত ঘুম রক্তে শর্করা ও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ওপরও প্রভাব ফেলে। এর ফলে পরোক্ষভাবে ওজন বৃদ্ধি ও বিপাকীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে কার্ডিওভাসকুলার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

অনিয়মিত ঘুম স্বায়ত্তশাসিত স্নায়ুতন্ত্রের ভারসাম্যকেও প্রভাবিত করতে পারে। এই স্নায়ুতন্ত্র হৃদ্‌স্পন্দন ও এর ছন্দ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

২০২৫ সালে ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন নিউরোসায়েন্স’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন এক্সামিনেশন সার্ভের তথ্য ব্যবহার করা হয়। এতে দেখা গেছে, ঘুমের সময়কাল ও ঘুমের ব্যাঘাতসহ বিভিন্ন ঘুম-সম্পর্কিত কারণ যুক্তরাষ্ট্রের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মধ্যে কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকির সঙ্গে তাৎপর্যপূর্ণভাবে সম্পর্কিত।

আদর্শ ঘুম কত ঘণ্টা?

হৃদ্‌স্বাস্থ্যবিষয়ক বেশির ভাগ নির্দেশিকায় প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি রাতে প্রায় সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এই সময়কাল সাধারণত সর্বনিম্ন কার্ডিওভাসকুলার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এর তুলনায় অনেক কম বা বেশি সময় ঘুমালেও হৃদ্‌যন্ত্র–সম্পর্কিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।

Share this news as a Photo Card

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বিয়ে নিয়ে কেয়া পায়েলের ভাবনা, জীবনসঙ্গী হিসেবে চান বিশ্বাস ও সম্মান

04 October 2026

ধানমন্ডিতে যাত্রা শুরু করল আকিজ ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার

www.hostbuybd.com

ছয় ঘণ্টার কম ঘুমে বাড়তে পারে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি

Update Time : ০৬:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

বেশি কাজ করার জন্য ঘুম বাদ দেওয়া সাময়িকভাবে নিরীহ মনে হতে পারে। তবে নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর ধীরে ধীরে চাপ তৈরি করতে পারে। ধারাবাহিকভাবে প্রতি রাতে ছয় ঘণ্টার কম ঘুমানোর সঙ্গে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। ঘুম শুধু বিশ্রামের জন্য নয়, শরীরের এমন অনেক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে। তাই দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।

ছয় ঘণ্টার কম ঘুমানোর ঝুঁকি

নিয়মিত ছয় ঘণ্টার কম ঘুমালে ধীরে ধীরে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে—

  • উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বৃদ্ধি;
  • করোনারি আর্টারি ডিজিজের ঝুঁকি বৃদ্ধি;
  • অনিয়মিত হৃদ্‌স্পন্দনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি;
  • স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি;
  • টাইপ ২ ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা বৃদ্ধি, যা নিজেই কার্ডিওভাসকুলার ঝুঁকি বাড়ায়;
  • ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতার সম্ভাবনা বৃদ্ধি, যা উভয়ই হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

এটি শুধু চিকিৎসকদের মতামত নয়। ২০২৪ সালে ‘আমেরিকান জার্নাল অব প্রিভেন্টিভ কার্ডিওলজি’-তে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কম ঘুমের সঙ্গে হৃদ্‌রোগজনিত মৃত্যু, কার্ডিওমেটাবলিক ঝুঁকি ও করোনারি আর্টারি ডিজিজের শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে।

অপর্যাপ্ত ঘুম কীভাবে হৃদ্‌যন্ত্রকে প্রভাবিত করে

অপর্যাপ্ত ঘুম শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে পারে। সাধারণত গভীর ঘুমের সময় রক্তচাপ কিছুটা কমে যায়। নিয়মিত এই স্বাভাবিক হ্রাস না ঘটলে ধীরে ধীরে দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে।

কম ঘুম কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে রক্তনালি ও হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যকারিতা প্রভাবিত হয়।

ঘুমের অভাব শরীরে প্রদাহ বাড়ার সঙ্গেও সম্পর্কিত। প্রদাহ ধমনির ক্ষতি এবং হৃদ্‌রোগের একটি পরিচিত কারণ।

অপর্যাপ্ত ঘুম রক্তে শর্করা ও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ওপরও প্রভাব ফেলে। এর ফলে পরোক্ষভাবে ওজন বৃদ্ধি ও বিপাকীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে কার্ডিওভাসকুলার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

অনিয়মিত ঘুম স্বায়ত্তশাসিত স্নায়ুতন্ত্রের ভারসাম্যকেও প্রভাবিত করতে পারে। এই স্নায়ুতন্ত্র হৃদ্‌স্পন্দন ও এর ছন্দ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

২০২৫ সালে ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন নিউরোসায়েন্স’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন এক্সামিনেশন সার্ভের তথ্য ব্যবহার করা হয়। এতে দেখা গেছে, ঘুমের সময়কাল ও ঘুমের ব্যাঘাতসহ বিভিন্ন ঘুম-সম্পর্কিত কারণ যুক্তরাষ্ট্রের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মধ্যে কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকির সঙ্গে তাৎপর্যপূর্ণভাবে সম্পর্কিত।

আদর্শ ঘুম কত ঘণ্টা?

হৃদ্‌স্বাস্থ্যবিষয়ক বেশির ভাগ নির্দেশিকায় প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি রাতে প্রায় সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এই সময়কাল সাধারণত সর্বনিম্ন কার্ডিওভাসকুলার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এর তুলনায় অনেক কম বা বেশি সময় ঘুমালেও হৃদ্‌যন্ত্র–সম্পর্কিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।

Share this news as a Photo Card