Dhaka ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনাম
বুয়েটের ডিগ্রি, ছেড়েছেন লোভনীয় চাকরি—প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষক নায়লা শারাফ ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গাপূজার ছুটি বাড়ল এক দিন, ২০–২৪ অক্টোবর টানা ছুটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে ২০২৬ সালের নোবেল পেলেন ডেইসেরথ, হেগেম্যান ও নাগেল বিসিআইসির চেয়ারম্যান হলেন অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিঞা শিক্ষকতা ‘উপায়হীন বিকল্প’ নয়, মেধাবীদের প্রথম পছন্দ করতে হবে: তারেক রহমান ধানমন্ডিতে যাত্রা শুরু করল আকিজ ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডারে ২৫২ টাকা বাড়ল, নতুন দাম ১,৮৩৭ টাকা ডিআইজি-অতিরিক্ত ডিআইজিসহ পুলিশের ২৪ কর্মকর্তাকে বদলি যানজট নিরসনে ইনার সার্কুলার রিং রোডের কাজ দ্রুত শেষের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

লিভার সুস্থ রাখতে সহায়ক ১০ খাবার

  • Md Sadikul islam (shopnil)
  • Update Time : ০৮:৪৩:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭ Time View

লিভার আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। শরীরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বিভিন্ন উপাদানকে এটি ফিল্টার, প্রক্রিয়াজাত ও ভেঙে ফেলার কাজ করে। রক্ত পরিশোধন ও রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায়ও লিভারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমরা যেসব রাসায়নিক, অ্যালকোহল ও ওষুধ গ্রহণ করি, লিভার সেগুলো ভেঙে ফেলে। এ ছাড়া গ্লুকোজ ও পিত্তরস তৈরি করে, যা সুস্থ থাকার জন্য প্রয়োজনীয় দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

বিষাক্ত পদার্থ ও দূষক উপাদানের কারণে লিভার অতিরিক্ত চাপের মধ্যে পড়লে এর স্বাভাবিক কার্যক্রম ধীর হয়ে যেতে পারে। অ্যালকোহল, ওষুধ ও অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিকের পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত ও ভাজা খাবার গ্রহণের কারণেও লিভারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

তবে এমন কিছু খাবার রয়েছে, যেগুলো লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণের প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে। এর অনেকগুলো খাবারই আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রয়েছে।

রসুন

রসুনে সেলেনিয়াম নামের একটি খনিজ উপাদান রয়েছে, যা লিভারের বিষমুক্তকরণ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে। এটি লিভারের কিছু এনজাইম সক্রিয় করতেও ভূমিকা রাখে। এসব এনজাইম শরীর থেকে প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দিতে সহায়তা করে।

সাইট্রাস ফল

জাম্বুরা, কমলা, মাল্টা ও লেবুর মতো সাইট্রাস ফল লিভারের স্বাভাবিক পরিষ্কার করার প্রক্রিয়ায় সহায়ক হতে পারে। অল্প পরিমাণে খেলেও এসব ফল লিভারে বিষমুক্তকারী এনজাইম তৈরিতে সহায়তা করে, যা শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দিতে ভূমিকা রাখে।

শাক-সবজি

ব্রোকলি ও ফুলকপির মতো ক্রুসিফেরাস শাক-সবজিতে গ্লুকোসিনোলেট থাকে। এই উপাদান লিভারে বিষমুক্তকারী এনজাইম তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। এসব সবজিতে থাকা সালফার যৌগও লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

এ ছাড়া পাতাযুক্ত শাক-সবজিতে প্রচুর ক্লোরোফিল থাকে, যা রক্তপ্রবাহ থেকে ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণে সহায়তা করতে পারে। এগুলো ভারী ধাতুর ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে লিভারকে সুরক্ষা দিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

হলুদ

হলুদ লিভারের জন্য উপকারী একটি ভেষজ। এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এনজাইমের কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে। হলুদে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের কোষের সুরক্ষা ও মেরামতে ভূমিকা রাখে। এটি ধাতুর বিষমুক্তকরণ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার পাশাপাশি পিত্তরস উৎপাদন বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

আখরোট

আখরোটে প্রচুর পরিমাণে অ্যামাইনো অ্যাসিড আর্জিনিন থাকে, যা লিভারকে অ্যামোনিয়া থেকে বিষমুক্ত করতে সহায়তা করতে পারে। এতে গ্লুটাথায়ন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও রয়েছে, যা লিভারের স্বাভাবিক পরিষ্কার করার প্রক্রিয়ায় সহায়ক।

বিটরুট

বিটরুট রক্ত পরিষ্কার ও অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। এটি ক্ষতিকর বর্জ্য ভেঙে দ্রুত শরীর থেকে বের করে দিতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি পিত্তরসের প্রবাহকে উদ্দীপিত এবং এনজাইমের কার্যক্রম বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। বিটরুটে থাকা ফাইবার ও ভিটামিন সি পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও সহায়ক।

গাজর

গাজরে প্রচুর পরিমাণে প্ল্যান্ট ফ্ল্যাভোনয়েড ও বিটা-ক্যারোটিন থাকে। এসব উপাদান লিভারের সামগ্রিক কার্যক্রমকে উদ্দীপিত ও সহায়তা করতে পারে। গাজরে থাকা ভিটামিন এ-ও লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

গ্রিন টি

লিভারের জন্য উপকারী খাবারের পাশাপাশি পানীয় হিসেবেও গ্রিন টি বেছে নেওয়া যেতে পারে। এতে ক্যাটেচিন নামের উদ্ভিদজাত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা লিভারের কার্যকারিতায় সহায়তা করতে পারে।

তবে গ্রিন টি খাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু গ্রিন টি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়; গ্রিন টি এক্সট্র্যাক্ট এড়িয়ে চলা ভালো। কারণ অতিরিক্ত বা ঘন গ্রিন টি এক্সট্র্যাক্ট লিভারের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আপেল

আপেলে উচ্চ মাত্রায় পেকটিন থাকে। এটি এমন একটি উপাদান, যা পরিপাকতন্ত্র থেকে ক্ষতিকর পদার্থ পরিষ্কার ও বের করে দিতে সহায়তা করতে পারে। পরিপাকতন্ত্রে ক্ষতিকর পদার্থের পরিমাণ কম থাকলে লিভারও তার ওপর থাকা বাড়তি চাপ আরও ভালোভাবে সামলাতে পারে এবং শরীরের স্বাভাবিক বিষমুক্তকরণ প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে।

অ্যাভোকাডো

অ্যাভোকাডো পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি খাবার। এটি ধমনির স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক হওয়ার পাশাপাশি শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে গ্লুটাথায়ন তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে। গ্লুটাথায়ন এমন একটি যৌগ, যা লিভারের ক্ষতিকর পদার্থ থেকে মুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Share this news as a Photo Card

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বুয়েটের ডিগ্রি, ছেড়েছেন লোভনীয় চাকরি—প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষক নায়লা শারাফ

04 October 2026

যানজট নিরসনে ইনার সার্কুলার রিং রোডের কাজ দ্রুত শেষের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

www.hostbuybd.com

লিভার সুস্থ রাখতে সহায়ক ১০ খাবার

Update Time : ০৮:৪৩:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

লিভার আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। শরীরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বিভিন্ন উপাদানকে এটি ফিল্টার, প্রক্রিয়াজাত ও ভেঙে ফেলার কাজ করে। রক্ত পরিশোধন ও রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায়ও লিভারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমরা যেসব রাসায়নিক, অ্যালকোহল ও ওষুধ গ্রহণ করি, লিভার সেগুলো ভেঙে ফেলে। এ ছাড়া গ্লুকোজ ও পিত্তরস তৈরি করে, যা সুস্থ থাকার জন্য প্রয়োজনীয় দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

বিষাক্ত পদার্থ ও দূষক উপাদানের কারণে লিভার অতিরিক্ত চাপের মধ্যে পড়লে এর স্বাভাবিক কার্যক্রম ধীর হয়ে যেতে পারে। অ্যালকোহল, ওষুধ ও অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিকের পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত ও ভাজা খাবার গ্রহণের কারণেও লিভারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

তবে এমন কিছু খাবার রয়েছে, যেগুলো লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণের প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে। এর অনেকগুলো খাবারই আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রয়েছে।

রসুন

রসুনে সেলেনিয়াম নামের একটি খনিজ উপাদান রয়েছে, যা লিভারের বিষমুক্তকরণ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে। এটি লিভারের কিছু এনজাইম সক্রিয় করতেও ভূমিকা রাখে। এসব এনজাইম শরীর থেকে প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দিতে সহায়তা করে।

সাইট্রাস ফল

জাম্বুরা, কমলা, মাল্টা ও লেবুর মতো সাইট্রাস ফল লিভারের স্বাভাবিক পরিষ্কার করার প্রক্রিয়ায় সহায়ক হতে পারে। অল্প পরিমাণে খেলেও এসব ফল লিভারে বিষমুক্তকারী এনজাইম তৈরিতে সহায়তা করে, যা শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দিতে ভূমিকা রাখে।

শাক-সবজি

ব্রোকলি ও ফুলকপির মতো ক্রুসিফেরাস শাক-সবজিতে গ্লুকোসিনোলেট থাকে। এই উপাদান লিভারে বিষমুক্তকারী এনজাইম তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। এসব সবজিতে থাকা সালফার যৌগও লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

এ ছাড়া পাতাযুক্ত শাক-সবজিতে প্রচুর ক্লোরোফিল থাকে, যা রক্তপ্রবাহ থেকে ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণে সহায়তা করতে পারে। এগুলো ভারী ধাতুর ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে লিভারকে সুরক্ষা দিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

হলুদ

হলুদ লিভারের জন্য উপকারী একটি ভেষজ। এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এনজাইমের কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে। হলুদে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের কোষের সুরক্ষা ও মেরামতে ভূমিকা রাখে। এটি ধাতুর বিষমুক্তকরণ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার পাশাপাশি পিত্তরস উৎপাদন বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

আখরোট

আখরোটে প্রচুর পরিমাণে অ্যামাইনো অ্যাসিড আর্জিনিন থাকে, যা লিভারকে অ্যামোনিয়া থেকে বিষমুক্ত করতে সহায়তা করতে পারে। এতে গ্লুটাথায়ন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও রয়েছে, যা লিভারের স্বাভাবিক পরিষ্কার করার প্রক্রিয়ায় সহায়ক।

বিটরুট

বিটরুট রক্ত পরিষ্কার ও অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। এটি ক্ষতিকর বর্জ্য ভেঙে দ্রুত শরীর থেকে বের করে দিতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি পিত্তরসের প্রবাহকে উদ্দীপিত এবং এনজাইমের কার্যক্রম বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। বিটরুটে থাকা ফাইবার ও ভিটামিন সি পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও সহায়ক।

গাজর

গাজরে প্রচুর পরিমাণে প্ল্যান্ট ফ্ল্যাভোনয়েড ও বিটা-ক্যারোটিন থাকে। এসব উপাদান লিভারের সামগ্রিক কার্যক্রমকে উদ্দীপিত ও সহায়তা করতে পারে। গাজরে থাকা ভিটামিন এ-ও লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

গ্রিন টি

লিভারের জন্য উপকারী খাবারের পাশাপাশি পানীয় হিসেবেও গ্রিন টি বেছে নেওয়া যেতে পারে। এতে ক্যাটেচিন নামের উদ্ভিদজাত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা লিভারের কার্যকারিতায় সহায়তা করতে পারে।

তবে গ্রিন টি খাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু গ্রিন টি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়; গ্রিন টি এক্সট্র্যাক্ট এড়িয়ে চলা ভালো। কারণ অতিরিক্ত বা ঘন গ্রিন টি এক্সট্র্যাক্ট লিভারের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আপেল

আপেলে উচ্চ মাত্রায় পেকটিন থাকে। এটি এমন একটি উপাদান, যা পরিপাকতন্ত্র থেকে ক্ষতিকর পদার্থ পরিষ্কার ও বের করে দিতে সহায়তা করতে পারে। পরিপাকতন্ত্রে ক্ষতিকর পদার্থের পরিমাণ কম থাকলে লিভারও তার ওপর থাকা বাড়তি চাপ আরও ভালোভাবে সামলাতে পারে এবং শরীরের স্বাভাবিক বিষমুক্তকরণ প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে।

অ্যাভোকাডো

অ্যাভোকাডো পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি খাবার। এটি ধমনির স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক হওয়ার পাশাপাশি শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে গ্লুটাথায়ন তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে। গ্লুটাথায়ন এমন একটি যৌগ, যা লিভারের ক্ষতিকর পদার্থ থেকে মুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Share this news as a Photo Card