Dhaka ১১:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনাম
৩৫৬ রানের জবাবে ৮৮ রানেই ৩ উইকেট হারাল বাংলাদেশ, পিছিয়ে ২৬৮ ‘সাংবাদিক না হলে স্যান্ডেল দিয়ে পেটাতাম’, পরীমনির পক্ষে দাঁড়িয়ে প্রভার ভিডিও বার্তা রবি বোলার হান্টে নির্বাচিত ২১ প্রতিভা, এনসিএলে খেলার সুযোগ পেয়েছেন সাতজন আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেবে না দেশের মানুষ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৭ নভেম্বর: জাতির ঐক্য ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের সূচনা কোস্টগার্ডের পাঁচ জাহাজের নাম পরিবর্তন, ‘জয় বাংলা’ হলো ‘অদম্য বাংলা’ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন ঝিনাইদহের তরুণ উদ্যোক্তা ইমতিয়াস ইসলাম ও তাঁর প্রতিষ্ঠান ফার্মারকেয়ার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো সংসদ অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ ৫০০ টাকা মুচলেকায় জামিন পেলেন পরীমণি, আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষোভ প্রকাশ

৭ নভেম্বর: জাতির ঐক্য ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের সূচনা

  • বাসস
  • Update Time : ০৬:৩১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • ১ Time View

নতুন একটি দেশ গঠনের স্বপ্ন নিয়ে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশের মানুষ। কিন্তু স্বাধীনতার পরপরই নবীন এই দেশে শুরু হয় একদলীয় বাকশালি শাসন। দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে মৃত্যুর মুখে পড়ে হাজারো মানুষ। এর সঙ্গে ছিল রক্ষীবাহিনীর সন্ত্রাস ও নির্মম নির্যাতন।

সদ্য স্বাধীন দেশে দুঃশাসন ও দুর্ভিক্ষে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায় স্থবির হয়ে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় জাসদের সহিংস রাজনীতি। এমন এক রাজনৈতিক সংকটকালে দেশের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে। চারদিকে হতাশা, ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে ১৯৭৫ সালের নানা ঘটনার ধারাবাহিকতায় সামনে আসে ৭ নভেম্বর।

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব অনেক। নির্দিষ্ট কোনো সময়ের মাপকাঠিতে এই দিনকে বিচার করা যায় না। দেশের রাজনীতিতে ৭ নভেম্বরের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি ও সুদূরপ্রসারী। বাংলাদেশ আজ যে পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে, তা ৭ নভেম্বরের ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল বলেই সম্ভব হয়েছে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সারাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। ওই দিনই বাংলাদেশ নিজের চলার পথ খুঁজে নেয়। ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে ঘটনাপ্রবাহের শুরু হয়েছিল, ৭ নভেম্বর তার পরিসমাপ্তি ঘটে।

৩ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া ঘটনাপ্রবাহের প্রধান চরিত্র ছিলেন তিনজন—সামরিক কর্মকর্তা ও স্বল্পকালীন সেনাপ্রধান খালেদ মোশাররফ, জাসদ নেতা কর্নেল আবু তাহের এবং তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান। তবে ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার সমর্থনে জিয়াউর রহমানই হয়ে ওঠেন মূল নায়ক। ষড়যন্ত্রের দায় নিয়ে দৃশ্যপট থেকে ছিটকে পড়েন খালেদ মোশাররফ ও কর্নেল তাহের।

স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে জাতি যখন নানা ধারায় বিভক্ত, তখন ঐক্যের আহ্বান নিয়ে রাজনীতির মঞ্চে হাজির হন জিয়াউর রহমান।

স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান আগে থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক প্রজ্ঞার অভাবে খালেদ মোশাররফ ও আবু তাহের টিকে থাকতে পারেননি। সে সময় দেশের মানুষের চাহিদার সঙ্গে তাঁরা তাল মেলাতে পারেননি।

স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে জিয়াউর রহমানের প্রতি মানুষের আস্থা ছিল। অন্যদিকে মানুষ দেখেছে আওয়ামী লীগ ও জাসদের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি। আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার সংকুচিত করেছিল। বিপরীতে জাসদ শুরু করেছিল জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি।

সে সময়ের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, জাসদের এককভাবে অভ্যুত্থান সংগঠিত করার সক্ষমতা ছিল না। ফলে জাসদ বা কর্নেল তাহের জিয়াউর রহমানকে অবলম্বন করে ক্ষমতা দখল করতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু ঘটনাপ্রবাহের শেষ অঙ্কে সিপাহি-জনতাই জিয়াউর রহমানকে সামনে নিয়ে আসে। একপর্যায়ে সবকিছু তাঁর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। জিয়াউর রহমানের গ্রহণযোগ্যতার কাছে কর্নেল তাহের আর টিকতে পারেননি। ৭ নভেম্বরের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে জাসদের সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়।

এরপর জিয়াউর রহমান জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেন। প্রথমেই তিনি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে নজর দেন। বাকশালের কেন্দ্রীভূত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত উদার বাজারব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যান। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অর্থনীতির দুয়ার খুলে দেন। তবে একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নজরদারিও বজায় রাখেন।

জিয়াউর রহমানের আমলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো নতুন করে কাজ করার সুযোগ পায়। এসব সংস্থার মাধ্যমে দেশে বিপুল পরিমাণ উন্নয়ন সহযোগিতার অর্থ প্রবেশ করে। এই অর্থ বিনিয়োগের ফলে এনজিওগুলোতে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে থাকে। ক্ষুদ্রঋণের বিকাশও ঘটে জিয়াউর রহমানের আমলে।

বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটে। রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ, বিশেষ করে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতেও সক্ষম হয়েছিলেন জিয়াউর রহমান।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জিয়াউর রহমান রাজনীতির ক্ষেত্রও সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। তাঁর আমলেই বাকশালে বিলুপ্ত হওয়া আওয়ামী লীগ নিজ নামে রাজনীতি করার সুযোগ ফিরে পায়।

একই সঙ্গে অন্যান্য দলের পাশাপাশি স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীও রাজনীতিতে ফিরে আসতে শুরু করে। যুদ্ধোত্তর সময়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে জাতি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে দেশের কল্যাণে সবাইকে নিয়োজিত করতে চেয়েছিলেন তিনি।

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর তাই ঐক্যের প্রতীক। আর সেই ঐক্যের মহানায়ক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি যখন রাজনীতির মঞ্চে আসেন, তখন সারা বিশ্বেই রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছিল। বিভিন্ন দেশে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটছিল। সামরিক শাসকেরা দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতা দখল করছিলেন।

ব্রাজিলে তখন এক দশক ধরে সামরিক শাসন চলছিল। চিলিতে সালভাদর আয়েন্দেকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিলেন পিনোশে। আর্জেন্টিনাতেও শুরু হয়েছিল হোর্হে ভিদালের সামরিক শাসন। অন্যদিকে আফ্রিকায় লিবিয়া ও মিসর কঠোর সামরিক শাসকদের অধীনে পরিচালিত হচ্ছিল। আরব বিশ্বেও সামরিক শাসনের বিস্তার ঘটছিল। সিরিয়া ও ইরাকে লৌহমানবেরা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছিলেন।

এমন বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনী থেকে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমান নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা করে নেন। অস্থিরতা দমন ও পরিস্থিতি সামাল দিয়ে দ্রুতই দেশকে গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে নেন। স্বাধীনতার পর প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা শুরু হয়েছিল জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই।

জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা। রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে হতবিহ্বল জাতিকে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছেন। সেই সাহসের ওপর ভর করেই ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমান দেশের নেতৃত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন।

ফলে দেখা যায়, স্বাধীন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের প্রকৃত সূচনা হয়েছিল ৭ নভেম্বর বিপ্লবের মধ্য দিয়ে। ১৯৭১ সালের পর সারা দেশের মানুষ আবার ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল ৭ নভেম্বর।

লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি

Share this news as a Photo Card

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

৩৫৬ রানের জবাবে ৮৮ রানেই ৩ উইকেট হারাল বাংলাদেশ, পিছিয়ে ২৬৮

05 November 2026

৫০০ টাকা মুচলেকায় জামিন পেলেন পরীমণি, আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষোভ প্রকাশ

www.hostbuybd.com

৭ নভেম্বর: জাতির ঐক্য ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের সূচনা

Update Time : ০৬:৩১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

নতুন একটি দেশ গঠনের স্বপ্ন নিয়ে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশের মানুষ। কিন্তু স্বাধীনতার পরপরই নবীন এই দেশে শুরু হয় একদলীয় বাকশালি শাসন। দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে মৃত্যুর মুখে পড়ে হাজারো মানুষ। এর সঙ্গে ছিল রক্ষীবাহিনীর সন্ত্রাস ও নির্মম নির্যাতন।

সদ্য স্বাধীন দেশে দুঃশাসন ও দুর্ভিক্ষে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায় স্থবির হয়ে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় জাসদের সহিংস রাজনীতি। এমন এক রাজনৈতিক সংকটকালে দেশের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে। চারদিকে হতাশা, ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে ১৯৭৫ সালের নানা ঘটনার ধারাবাহিকতায় সামনে আসে ৭ নভেম্বর।

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব অনেক। নির্দিষ্ট কোনো সময়ের মাপকাঠিতে এই দিনকে বিচার করা যায় না। দেশের রাজনীতিতে ৭ নভেম্বরের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি ও সুদূরপ্রসারী। বাংলাদেশ আজ যে পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে, তা ৭ নভেম্বরের ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল বলেই সম্ভব হয়েছে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সারাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। ওই দিনই বাংলাদেশ নিজের চলার পথ খুঁজে নেয়। ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে ঘটনাপ্রবাহের শুরু হয়েছিল, ৭ নভেম্বর তার পরিসমাপ্তি ঘটে।

৩ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া ঘটনাপ্রবাহের প্রধান চরিত্র ছিলেন তিনজন—সামরিক কর্মকর্তা ও স্বল্পকালীন সেনাপ্রধান খালেদ মোশাররফ, জাসদ নেতা কর্নেল আবু তাহের এবং তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান। তবে ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার সমর্থনে জিয়াউর রহমানই হয়ে ওঠেন মূল নায়ক। ষড়যন্ত্রের দায় নিয়ে দৃশ্যপট থেকে ছিটকে পড়েন খালেদ মোশাররফ ও কর্নেল তাহের।

স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে জাতি যখন নানা ধারায় বিভক্ত, তখন ঐক্যের আহ্বান নিয়ে রাজনীতির মঞ্চে হাজির হন জিয়াউর রহমান।

স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান আগে থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক প্রজ্ঞার অভাবে খালেদ মোশাররফ ও আবু তাহের টিকে থাকতে পারেননি। সে সময় দেশের মানুষের চাহিদার সঙ্গে তাঁরা তাল মেলাতে পারেননি।

স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে জিয়াউর রহমানের প্রতি মানুষের আস্থা ছিল। অন্যদিকে মানুষ দেখেছে আওয়ামী লীগ ও জাসদের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি। আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার সংকুচিত করেছিল। বিপরীতে জাসদ শুরু করেছিল জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি।

সে সময়ের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, জাসদের এককভাবে অভ্যুত্থান সংগঠিত করার সক্ষমতা ছিল না। ফলে জাসদ বা কর্নেল তাহের জিয়াউর রহমানকে অবলম্বন করে ক্ষমতা দখল করতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু ঘটনাপ্রবাহের শেষ অঙ্কে সিপাহি-জনতাই জিয়াউর রহমানকে সামনে নিয়ে আসে। একপর্যায়ে সবকিছু তাঁর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। জিয়াউর রহমানের গ্রহণযোগ্যতার কাছে কর্নেল তাহের আর টিকতে পারেননি। ৭ নভেম্বরের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে জাসদের সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়।

এরপর জিয়াউর রহমান জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেন। প্রথমেই তিনি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে নজর দেন। বাকশালের কেন্দ্রীভূত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত উদার বাজারব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যান। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অর্থনীতির দুয়ার খুলে দেন। তবে একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নজরদারিও বজায় রাখেন।

জিয়াউর রহমানের আমলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো নতুন করে কাজ করার সুযোগ পায়। এসব সংস্থার মাধ্যমে দেশে বিপুল পরিমাণ উন্নয়ন সহযোগিতার অর্থ প্রবেশ করে। এই অর্থ বিনিয়োগের ফলে এনজিওগুলোতে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে থাকে। ক্ষুদ্রঋণের বিকাশও ঘটে জিয়াউর রহমানের আমলে।

বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটে। রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ, বিশেষ করে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতেও সক্ষম হয়েছিলেন জিয়াউর রহমান।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জিয়াউর রহমান রাজনীতির ক্ষেত্রও সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। তাঁর আমলেই বাকশালে বিলুপ্ত হওয়া আওয়ামী লীগ নিজ নামে রাজনীতি করার সুযোগ ফিরে পায়।

একই সঙ্গে অন্যান্য দলের পাশাপাশি স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীও রাজনীতিতে ফিরে আসতে শুরু করে। যুদ্ধোত্তর সময়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে জাতি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে দেশের কল্যাণে সবাইকে নিয়োজিত করতে চেয়েছিলেন তিনি।

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর তাই ঐক্যের প্রতীক। আর সেই ঐক্যের মহানায়ক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি যখন রাজনীতির মঞ্চে আসেন, তখন সারা বিশ্বেই রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছিল। বিভিন্ন দেশে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটছিল। সামরিক শাসকেরা দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতা দখল করছিলেন।

ব্রাজিলে তখন এক দশক ধরে সামরিক শাসন চলছিল। চিলিতে সালভাদর আয়েন্দেকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিলেন পিনোশে। আর্জেন্টিনাতেও শুরু হয়েছিল হোর্হে ভিদালের সামরিক শাসন। অন্যদিকে আফ্রিকায় লিবিয়া ও মিসর কঠোর সামরিক শাসকদের অধীনে পরিচালিত হচ্ছিল। আরব বিশ্বেও সামরিক শাসনের বিস্তার ঘটছিল। সিরিয়া ও ইরাকে লৌহমানবেরা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছিলেন।

এমন বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনী থেকে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমান নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা করে নেন। অস্থিরতা দমন ও পরিস্থিতি সামাল দিয়ে দ্রুতই দেশকে গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে নেন। স্বাধীনতার পর প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা শুরু হয়েছিল জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই।

জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা। রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে হতবিহ্বল জাতিকে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছেন। সেই সাহসের ওপর ভর করেই ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমান দেশের নেতৃত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন।

ফলে দেখা যায়, স্বাধীন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের প্রকৃত সূচনা হয়েছিল ৭ নভেম্বর বিপ্লবের মধ্য দিয়ে। ১৯৭১ সালের পর সারা দেশের মানুষ আবার ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল ৭ নভেম্বর।

লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি

Share this news as a Photo Card