Dhaka ০৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনাম
বিয়ে নিয়ে কেয়া পায়েলের ভাবনা, জীবনসঙ্গী হিসেবে চান বিশ্বাস ও সম্মান জনকল্যাণমূলক কাজে সরকারকে সহযোগিতা করবে জামায়াত: গোলাম পরওয়ার মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের পাশে নাগরিক উদ্যোগ নিল বিএমইউ বুয়েটের ডিগ্রি, ছেড়েছেন লোভনীয় চাকরি—প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষক নায়লা শারাফ ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গাপূজার ছুটি বাড়ল এক দিন, ২০–২৪ অক্টোবর টানা ছুটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে ২০২৬ সালের নোবেল পেলেন ডেইসেরথ, হেগেম্যান ও নাগেল বিসিআইসির চেয়ারম্যান হলেন অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিঞা শিক্ষকতা ‘উপায়হীন বিকল্প’ নয়, মেধাবীদের প্রথম পছন্দ করতে হবে: তারেক রহমান ধানমন্ডিতে যাত্রা শুরু করল আকিজ ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার

কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, সালিশে অভিযুক্তকে কান ধরে উঠবস

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তাঁর নিকটাত্মীয় এক তরুণের বিরুদ্ধে। সালিশের নামে অভিযুক্ত তরুণকে মাত্র সাতবার কান ধরে উঠবস করিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকালে অনুষ্ঠিত ওই সালিশ মানেননি ভুক্তভোগীর স্বজনেরা। তাঁদের অভিযোগ, মামলা করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কিশোরীটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্বজনেরা জানান, গত শনিবার রাত ৯টার দিকে জাহিদুল ইসলাম নামের ওই তরুণ ভুক্তভোগী কিশোরীকে বাড়ির পাশের একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যান। সেখানে একটি পরিত্যক্ত ঘরে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। বিষয়টি কাউকে জানালে কিশোরীকে হত্যার হুমকিও দেন জাহিদুল। পরে বাড়ি ফিরে বড় বোনকে বিষয়টি জানায় ওই কিশোরী।

পরদিন সকালে জাহিদুলের কাছে বিষয়টি জানতে চান কিশোরীর বড় ভাই। এ সময় তিনি উল্টো চড়াও হন এবং মামলা করলে খারাপ পরিণতির হুঁশিয়ারি দেন। পরে গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়টি জানানো হলে তাঁরা সোমবার সকালে সালিশ ডাকেন। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে ইউপি সদস্য ফাহিমা বেগমের উপস্থিতিতে জাহিদুলকে মাত্র সাতবার কান ধরে উঠবস করিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

কিশোরীর বড় ভাই বলেন, তাঁর বোন সহজ-সরল। তাঁর সরলতার সুযোগ নিয়ে জাহিদুল জঘন্য কাজটি করেছেন। তাঁরা সালিশের মীমাংসা না মেনে চিকিৎসার জন্য নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। পরে পুলিশের পরামর্শে কিশোরীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকায় জাহিদুলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ‘ব্যস্ত আছি’ বলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন ইউপি সদস্য ফাহিমা আক্তার।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স নেহেরা আক্তার জানান, কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তি করে তাঁর সোয়াব ও প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নাসিরনগর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। কিশোরীর পরিবারকে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বিয়ে নিয়ে কেয়া পায়েলের ভাবনা, জীবনসঙ্গী হিসেবে চান বিশ্বাস ও সম্মান

04 October 2026

ধানমন্ডিতে যাত্রা শুরু করল আকিজ ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার

www.hostbuybd.com

কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, সালিশে অভিযুক্তকে কান ধরে উঠবস

Update Time : ০৮:২৫:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তাঁর নিকটাত্মীয় এক তরুণের বিরুদ্ধে। সালিশের নামে অভিযুক্ত তরুণকে মাত্র সাতবার কান ধরে উঠবস করিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকালে অনুষ্ঠিত ওই সালিশ মানেননি ভুক্তভোগীর স্বজনেরা। তাঁদের অভিযোগ, মামলা করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কিশোরীটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্বজনেরা জানান, গত শনিবার রাত ৯টার দিকে জাহিদুল ইসলাম নামের ওই তরুণ ভুক্তভোগী কিশোরীকে বাড়ির পাশের একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যান। সেখানে একটি পরিত্যক্ত ঘরে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। বিষয়টি কাউকে জানালে কিশোরীকে হত্যার হুমকিও দেন জাহিদুল। পরে বাড়ি ফিরে বড় বোনকে বিষয়টি জানায় ওই কিশোরী।

পরদিন সকালে জাহিদুলের কাছে বিষয়টি জানতে চান কিশোরীর বড় ভাই। এ সময় তিনি উল্টো চড়াও হন এবং মামলা করলে খারাপ পরিণতির হুঁশিয়ারি দেন। পরে গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়টি জানানো হলে তাঁরা সোমবার সকালে সালিশ ডাকেন। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে ইউপি সদস্য ফাহিমা বেগমের উপস্থিতিতে জাহিদুলকে মাত্র সাতবার কান ধরে উঠবস করিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

কিশোরীর বড় ভাই বলেন, তাঁর বোন সহজ-সরল। তাঁর সরলতার সুযোগ নিয়ে জাহিদুল জঘন্য কাজটি করেছেন। তাঁরা সালিশের মীমাংসা না মেনে চিকিৎসার জন্য নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। পরে পুলিশের পরামর্শে কিশোরীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকায় জাহিদুলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ‘ব্যস্ত আছি’ বলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন ইউপি সদস্য ফাহিমা আক্তার।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স নেহেরা আক্তার জানান, কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তি করে তাঁর সোয়াব ও প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নাসিরনগর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। কিশোরীর পরিবারকে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।

Share this news as a Photo Card