Dhaka ০৬:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনাম
জনকল্যাণমূলক কাজে সরকারকে সহযোগিতা করবে জামায়াত: গোলাম পরওয়ার মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের পাশে নাগরিক উদ্যোগ নিল বিএমইউ বুয়েটের ডিগ্রি, ছেড়েছেন লোভনীয় চাকরি—প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষক নায়লা শারাফ ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গাপূজার ছুটি বাড়ল এক দিন, ২০–২৪ অক্টোবর টানা ছুটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে ২০২৬ সালের নোবেল পেলেন ডেইসেরথ, হেগেম্যান ও নাগেল বিসিআইসির চেয়ারম্যান হলেন অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিঞা শিক্ষকতা ‘উপায়হীন বিকল্প’ নয়, মেধাবীদের প্রথম পছন্দ করতে হবে: তারেক রহমান ধানমন্ডিতে যাত্রা শুরু করল আকিজ ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডারে ২৫২ টাকা বাড়ল, নতুন দাম ১,৮৩৭ টাকা

ঝিনাইদহে সৌরবিদ্যুতের সেচ পাম্পে কমছে কৃষকের খরচ, বাড়ছে কৃষকের আগ্রহ

ঝিনাইদহে ফসলের মাঠে সেচ সরবরাহে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প। এতে একদিকে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের ওপর চাপ কমেছে, অন্যদিকে দিনের বেলায় নিরবচ্ছিন্ন সেচের সুবিধায় কম খরচে ফসল উৎপাদন করতে পারছেন কৃষকেরা। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি বেড়েছে উৎপাদন। ফলে দিন দিন সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্পের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকেরা। কৃষি বিভাগও এই সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণে নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলায় ৩৬টি সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প সচল রয়েছে। কয়েক বছর আগে এসব পাম্প স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩টি, কোটচাঁদপুরে ১টি এবং মহেশপুরে ৩২টি সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প রয়েছে। এ ছাড়া জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৮৬টি সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প রয়েছে বলে জানা গেছে। পর্যায়ক্রমে জেলার বিভিন্ন তিন ফসলি ও চার ফসলি জমিতে সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প স্থাপনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কারিগরি সহায়তায় রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশনের (আরআরএফ) বাস্তবায়নাধীন ‘স্মার্ট’ প্রকল্পের আওতায় আগে এসব সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প স্থাপন করা হয়। কোথাও কোথাও এখনো প্রকল্পটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্পের সুবিধাভোগী সদর উপজেলার মধুহাটি এলাকার কৃষক জাহিদুল ইসলাম বাসসকে বলেন, ডিজেলচালিত সেচ পাম্প অনেক ব্যয়বহুল। বিদ্যুৎচালিত পাম্পেও খরচ অনেক। এ ছাড়া লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎচালিত পাম্প থেকে সব সময় নিরবচ্ছিন্ন সেচ পাওয়া যায় না। এ কারণে তাঁরা সৌরবিদ্যুৎ চালিত পাম্পের মাধ্যমে জমিতে সেচ দেন। এতে খরচ অর্ধেকে নেমে এসেছে।

কোটচাঁদপুর উপজেলার কুশনা এলাকার কৃষক শামীম হোসেন বাসসকে বলেন, কোথাও কোথাও কৃষকেরা সমবায়ের ভিত্তিতে এই পাম্প বসিয়েছেন। আবার কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প স্থাপন করেছেন।

এই পাম্পের মাধ্যমে কৃষকেরা নিজেদের জমিতে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি অন্যের জমিতে সেচের পানি সরবরাহ করে বাড়তি অর্থও উপার্জন করতে পারছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. কামরুজ্জামান বাসসকে জানান, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৮৬টি সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প সচল রয়েছে। এসব পাম্পের মাধ্যমে জেলার মোট ৬৫৪ হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে কৃষিকাজে সেচ আরও বেগবান করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ শুরু করা হয়েছে। তিন ফসলি ও চার ফসলি জমিগুলোকে সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচব্যবস্থার আওতায় আনতে পারলে কৃষি উৎপাদনে সেচ খরচ অনেক কমে যাবে। এতে কৃষকেরাও উপকৃত হবেন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের ওপর বাড়তি চাপ কমবে।

 

Share this news as a Photo Card

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

জনকল্যাণমূলক কাজে সরকারকে সহযোগিতা করবে জামায়াত: গোলাম পরওয়ার

04 October 2026

এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডারে ২৫২ টাকা বাড়ল, নতুন দাম ১,৮৩৭ টাকা

www.hostbuybd.com

ঝিনাইদহে সৌরবিদ্যুতের সেচ পাম্পে কমছে কৃষকের খরচ, বাড়ছে কৃষকের আগ্রহ

Update Time : ০৬:৪৪:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঝিনাইদহে ফসলের মাঠে সেচ সরবরাহে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প। এতে একদিকে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের ওপর চাপ কমেছে, অন্যদিকে দিনের বেলায় নিরবচ্ছিন্ন সেচের সুবিধায় কম খরচে ফসল উৎপাদন করতে পারছেন কৃষকেরা। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি বেড়েছে উৎপাদন। ফলে দিন দিন সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্পের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকেরা। কৃষি বিভাগও এই সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণে নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলায় ৩৬টি সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প সচল রয়েছে। কয়েক বছর আগে এসব পাম্প স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩টি, কোটচাঁদপুরে ১টি এবং মহেশপুরে ৩২টি সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প রয়েছে। এ ছাড়া জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৮৬টি সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প রয়েছে বলে জানা গেছে। পর্যায়ক্রমে জেলার বিভিন্ন তিন ফসলি ও চার ফসলি জমিতে সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প স্থাপনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কারিগরি সহায়তায় রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশনের (আরআরএফ) বাস্তবায়নাধীন ‘স্মার্ট’ প্রকল্পের আওতায় আগে এসব সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প স্থাপন করা হয়। কোথাও কোথাও এখনো প্রকল্পটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্পের সুবিধাভোগী সদর উপজেলার মধুহাটি এলাকার কৃষক জাহিদুল ইসলাম বাসসকে বলেন, ডিজেলচালিত সেচ পাম্প অনেক ব্যয়বহুল। বিদ্যুৎচালিত পাম্পেও খরচ অনেক। এ ছাড়া লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎচালিত পাম্প থেকে সব সময় নিরবচ্ছিন্ন সেচ পাওয়া যায় না। এ কারণে তাঁরা সৌরবিদ্যুৎ চালিত পাম্পের মাধ্যমে জমিতে সেচ দেন। এতে খরচ অর্ধেকে নেমে এসেছে।

কোটচাঁদপুর উপজেলার কুশনা এলাকার কৃষক শামীম হোসেন বাসসকে বলেন, কোথাও কোথাও কৃষকেরা সমবায়ের ভিত্তিতে এই পাম্প বসিয়েছেন। আবার কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প স্থাপন করেছেন।

এই পাম্পের মাধ্যমে কৃষকেরা নিজেদের জমিতে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি অন্যের জমিতে সেচের পানি সরবরাহ করে বাড়তি অর্থও উপার্জন করতে পারছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. কামরুজ্জামান বাসসকে জানান, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৮৬টি সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প সচল রয়েছে। এসব পাম্পের মাধ্যমে জেলার মোট ৬৫৪ হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে কৃষিকাজে সেচ আরও বেগবান করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ শুরু করা হয়েছে। তিন ফসলি ও চার ফসলি জমিগুলোকে সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচব্যবস্থার আওতায় আনতে পারলে কৃষি উৎপাদনে সেচ খরচ অনেক কমে যাবে। এতে কৃষকেরাও উপকৃত হবেন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের ওপর বাড়তি চাপ কমবে।

 

Share this news as a Photo Card