Dhaka ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনাম
বুয়েটের ডিগ্রি, ছেড়েছেন লোভনীয় চাকরি—প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষক নায়লা শারাফ ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গাপূজার ছুটি বাড়ল এক দিন, ২০–২৪ অক্টোবর টানা ছুটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে ২০২৬ সালের নোবেল পেলেন ডেইসেরথ, হেগেম্যান ও নাগেল বিসিআইসির চেয়ারম্যান হলেন অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিঞা শিক্ষকতা ‘উপায়হীন বিকল্প’ নয়, মেধাবীদের প্রথম পছন্দ করতে হবে: তারেক রহমান ধানমন্ডিতে যাত্রা শুরু করল আকিজ ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডারে ২৫২ টাকা বাড়ল, নতুন দাম ১,৮৩৭ টাকা ডিআইজি-অতিরিক্ত ডিআইজিসহ পুলিশের ২৪ কর্মকর্তাকে বদলি যানজট নিরসনে ইনার সার্কুলার রিং রোডের কাজ দ্রুত শেষের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

স্মৃতি রিমঝিম: উদ্যোক্তা’র জীবনের গল্প

আপনার নাম ও প্রতিষ্ঠানের নাম কি?
আমি স্মৃতি রিমঝিম, আমাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ‘আবহ শৈলী’।
​আপনাদের প্রতিষ্ঠানের অবস্থান কোথায় এবং আপনারা কী কী পণ্য নিয়ে কাজ করছেন?
আমাদের প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত। আমরা মূলত দেশীয় পণ্যের ওপর কাজ করছি—ব্লকের বেডকাভার, পর্দা, কুশন কভার, শাড়ি, পাঞ্জাবি ও থ্রিপিস। পাশাপাশি হ্যান্ড পেইন্ট এবং স্ক্রিন প্রিন্ট নিয়েও কাজ করছি।
​আপনার ব্যবসার শুরুর গল্পটা কেমন ছিল?
শুরুটা হয়েছিল দুই বন্ধুর গল্পে গল্পে। আমরা দুজনই উচ্চশিক্ষিত এবং ক্যারিয়ার সচেতন ছিলাম—আমি ব্যাংকে এবং আমার বন্ধু একটি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলাম। কিন্তু সন্তান হওয়ার পর আমাদের ক্যারিয়ারে বিরতি নিতে হয়। সন্তানরা একটু বড় হওয়ার পর মনে হলো নিজেদের একটি আইডেন্টিটি তৈরি করা দরকার, যাতে আমাদের দুটি কন্যাসন্তানের সামনে একটি রোল মডেল রেখে যেতে পারি। বন্ধুর আর্ট ভালো জানা ছিল, তাই মসলিন শাড়ি ও থ্রিপিসে হ্যান্ড পেইন্ট দিয়ে যাত্রা শুরু করি। পরবর্তীতে সময় সাশ্রয় ও সংসারের ভারসাম্য বজায় রাখতে ব্লক প্রিন্টে কাজ শুরু করি।
​ব্যবসায়িক যাত্রায় কী কী বাধা বা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন?
উত্তর: সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সময় ম্যানেজমেন্ট এবং কারখানায় কাজের অভিজ্ঞতা। নারী হওয়ার কারণে কারখানার কারিগররা শুরুতে আমল দিতে চাইত না; ভাবত শখের বশে এসেছি। ছোট অর্ডারের কারণে ছেলেদের কাজ আগে করে আমাদের কাজ ফেলে রাখত। এছাড়া পরিবার থেকে রাতে কাজে যাওয়া বা সোর্সিংয়ের জন্য ঢাকার বাইরে যাওয়ার অনুমতি মিলত না। পরিচিতদের কিছু টিপ্পনীও শুনতে হতো।
​প্রথম অর্ডার পাওয়ার অনুভূতি কেমন ছিল?
আমাদের প্রথম অর্ডারটি ছিল ৮,০০০ টাকার। ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলে যখন কনফার্ম করলাম, মনে হলো—”এলাম, দেখলাম, জয় করলাম!” খুব এক্সাইটেড হয়ে বন্ধুকে ফোন দিয়েছিলাম। সারাদিন আনন্দ হচ্ছিল, আবার শতভাগ কাস্টমার স্যাটিসফ্যাকশন দেওয়ার একটা চাপও ছিল। বন্ধুও শুনে নিজ কানকে বিশ্বাস করতে পারছিল না।
​আপনার প্রতিষ্ঠানের মূল বার্তা বা মোটো কী?
ঐতিহ্য ও পরিচ্ছন্নতা।
​ব্যবসা পরিচালনা ও ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে আপনার কৌশল কী?
সংসার ও কাজ দুটিই প্ল্যান অনুযায়ী গুছিয়ে নিয়ে প্রায়োরিটি অনুযায়ী করি। কখনো সময় ম্যানেজ করতে না পারলে বন্ধু ও পরিবারকে জানাই, তারা সাধ্যমতো সাহায্য করে।
​বিক্রয় কমে গেলে বা কঠিন সময়ে কীভাবে নিজেকে ধরে রাখেন?
মাঝে মাঝে সেল কমে গেলে বা সময়ে কুলিয়ে উঠতে না পারলে মনে হতো সব ছেড়ে দিই। কিন্তু পরমুহূর্তেই বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে মনে হতো—ওদের ভবিষ্যতের জন্য হলেও ব্যবসাটাকে একটা ভালো জায়গায় নিয়ে যেতেই হবে।
নতুন উদ্যোক্তাদের প্রতি আপনার পরামর্শ কী থাকবে?
​আপনার নিজস্ব প্ল্যান, সোর্সিং, লাভের পরিমাণ, বিক্রির তথ্য এবং ফিউচার প্ল্যান সোশ্যাল মিডিয়ায় বা কারো সাথে শেয়ার না করাই ভালো।
​যে বিষয়ে আপনার স্কিল আছে, সেটা নিয়ে এগোতে থাকুন—কোনো কাজই ছোট নয়।
​শুরু করে দিন; হয় লাভবান হবেন, নাইলে শিখবেন। কোনো শিক্ষাই বৃথা যায় না।
আবহ শৈলী নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
বর্তমানে আমরা একটি শেয়ারড আউটলেটে আছি এবং অন্যের কারখানা ব্যবহার করছি। ভবিষ্যতে আমাদের লক্ষ্য—নিজস্ব কারখানা ও আউটলেট তৈরি করা, সুবিধাবঞ্চিত নারী ও কিশোরীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট লাইসেন্স করে বিশ্ববাজারে দেশীয় পণ্য ব্যাপকভাবে পৌঁছে দেওয়া।
​এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য কী?
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন এবং নিজের একটি শক্ত পরিচয় তৈরি করা।

Share this news as a Photo Card

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বুয়েটের ডিগ্রি, ছেড়েছেন লোভনীয় চাকরি—প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষক নায়লা শারাফ

04 October 2026

যানজট নিরসনে ইনার সার্কুলার রিং রোডের কাজ দ্রুত শেষের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

www.hostbuybd.com

স্মৃতি রিমঝিম: উদ্যোক্তা’র জীবনের গল্প

Update Time : ০৮:৩০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

আপনার নাম ও প্রতিষ্ঠানের নাম কি?
আমি স্মৃতি রিমঝিম, আমাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ‘আবহ শৈলী’।
​আপনাদের প্রতিষ্ঠানের অবস্থান কোথায় এবং আপনারা কী কী পণ্য নিয়ে কাজ করছেন?
আমাদের প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত। আমরা মূলত দেশীয় পণ্যের ওপর কাজ করছি—ব্লকের বেডকাভার, পর্দা, কুশন কভার, শাড়ি, পাঞ্জাবি ও থ্রিপিস। পাশাপাশি হ্যান্ড পেইন্ট এবং স্ক্রিন প্রিন্ট নিয়েও কাজ করছি।
​আপনার ব্যবসার শুরুর গল্পটা কেমন ছিল?
শুরুটা হয়েছিল দুই বন্ধুর গল্পে গল্পে। আমরা দুজনই উচ্চশিক্ষিত এবং ক্যারিয়ার সচেতন ছিলাম—আমি ব্যাংকে এবং আমার বন্ধু একটি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলাম। কিন্তু সন্তান হওয়ার পর আমাদের ক্যারিয়ারে বিরতি নিতে হয়। সন্তানরা একটু বড় হওয়ার পর মনে হলো নিজেদের একটি আইডেন্টিটি তৈরি করা দরকার, যাতে আমাদের দুটি কন্যাসন্তানের সামনে একটি রোল মডেল রেখে যেতে পারি। বন্ধুর আর্ট ভালো জানা ছিল, তাই মসলিন শাড়ি ও থ্রিপিসে হ্যান্ড পেইন্ট দিয়ে যাত্রা শুরু করি। পরবর্তীতে সময় সাশ্রয় ও সংসারের ভারসাম্য বজায় রাখতে ব্লক প্রিন্টে কাজ শুরু করি।
​ব্যবসায়িক যাত্রায় কী কী বাধা বা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন?
উত্তর: সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সময় ম্যানেজমেন্ট এবং কারখানায় কাজের অভিজ্ঞতা। নারী হওয়ার কারণে কারখানার কারিগররা শুরুতে আমল দিতে চাইত না; ভাবত শখের বশে এসেছি। ছোট অর্ডারের কারণে ছেলেদের কাজ আগে করে আমাদের কাজ ফেলে রাখত। এছাড়া পরিবার থেকে রাতে কাজে যাওয়া বা সোর্সিংয়ের জন্য ঢাকার বাইরে যাওয়ার অনুমতি মিলত না। পরিচিতদের কিছু টিপ্পনীও শুনতে হতো।
​প্রথম অর্ডার পাওয়ার অনুভূতি কেমন ছিল?
আমাদের প্রথম অর্ডারটি ছিল ৮,০০০ টাকার। ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলে যখন কনফার্ম করলাম, মনে হলো—”এলাম, দেখলাম, জয় করলাম!” খুব এক্সাইটেড হয়ে বন্ধুকে ফোন দিয়েছিলাম। সারাদিন আনন্দ হচ্ছিল, আবার শতভাগ কাস্টমার স্যাটিসফ্যাকশন দেওয়ার একটা চাপও ছিল। বন্ধুও শুনে নিজ কানকে বিশ্বাস করতে পারছিল না।
​আপনার প্রতিষ্ঠানের মূল বার্তা বা মোটো কী?
ঐতিহ্য ও পরিচ্ছন্নতা।
​ব্যবসা পরিচালনা ও ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে আপনার কৌশল কী?
সংসার ও কাজ দুটিই প্ল্যান অনুযায়ী গুছিয়ে নিয়ে প্রায়োরিটি অনুযায়ী করি। কখনো সময় ম্যানেজ করতে না পারলে বন্ধু ও পরিবারকে জানাই, তারা সাধ্যমতো সাহায্য করে।
​বিক্রয় কমে গেলে বা কঠিন সময়ে কীভাবে নিজেকে ধরে রাখেন?
মাঝে মাঝে সেল কমে গেলে বা সময়ে কুলিয়ে উঠতে না পারলে মনে হতো সব ছেড়ে দিই। কিন্তু পরমুহূর্তেই বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে মনে হতো—ওদের ভবিষ্যতের জন্য হলেও ব্যবসাটাকে একটা ভালো জায়গায় নিয়ে যেতেই হবে।
নতুন উদ্যোক্তাদের প্রতি আপনার পরামর্শ কী থাকবে?
​আপনার নিজস্ব প্ল্যান, সোর্সিং, লাভের পরিমাণ, বিক্রির তথ্য এবং ফিউচার প্ল্যান সোশ্যাল মিডিয়ায় বা কারো সাথে শেয়ার না করাই ভালো।
​যে বিষয়ে আপনার স্কিল আছে, সেটা নিয়ে এগোতে থাকুন—কোনো কাজই ছোট নয়।
​শুরু করে দিন; হয় লাভবান হবেন, নাইলে শিখবেন। কোনো শিক্ষাই বৃথা যায় না।
আবহ শৈলী নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
বর্তমানে আমরা একটি শেয়ারড আউটলেটে আছি এবং অন্যের কারখানা ব্যবহার করছি। ভবিষ্যতে আমাদের লক্ষ্য—নিজস্ব কারখানা ও আউটলেট তৈরি করা, সুবিধাবঞ্চিত নারী ও কিশোরীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট লাইসেন্স করে বিশ্ববাজারে দেশীয় পণ্য ব্যাপকভাবে পৌঁছে দেওয়া।
​এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য কী?
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন এবং নিজের একটি শক্ত পরিচয় তৈরি করা।

Share this news as a Photo Card