Dhaka ০১:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনাম
বাবা হিসেবে ভিকি কৌশলের দায়িত্ববোধে মুগ্ধ ক্যাটরিনা চার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে কার্ড দেবে সরকার, চলছে তথ্য সংগ্রহ নগদ ওয়ালেটে সরাসরি রেমিট্যান্স পাঠাতে ওয়ান ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা, ক্ষমতায় টিকে যেতে পারেন নেতানিয়াহু বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে মিরপুর ১০ নম্বরে পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ স্বর্ণের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছে, পতন রুপা-প্লাটিনামেও ৩০ নভেম্বরের মধ্যে উপজেলায় নতুন পাঠ্যবই পৌঁছানোর লক্ষ্য, ছাপা শেষ ৫৭ শতাংশের বেশি বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতায় ছয়টি দলিল স্বাক্ষর, প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণের প্রতিশ্রুতি স্কুলে বিদেশি ভাষা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সরকারের পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী বিকাশ অ্যাপে যুক্ত হলো ট্রাস্ট ব্যাংকের সঞ্চয় সেবা, আসছে ঋণ ও পে-লেটার

বিকাশ অ্যাপে যুক্ত হলো ট্রাস্ট ব্যাংকের সঞ্চয় সেবা, আসছে ঋণ ও পে-লেটার

মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের অ্যাপে যুক্ত হয়েছে ট্রাস্ট ব্যাংকের সঞ্চয় সেবা। পর্যায়ক্রমে ব্যাংকটির ঋণ, পে-লেটারসহ অন্যান্য সেবাও বিকাশ অ্যাপে যুক্ত হবে। সব ধরনের গ্রাহকের জন্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ সহজ করতে যৌথভাবে এ উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাস্ট ব্যাংক ও বিকাশ।

আর্থিক খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে আরও বেশি গ্রাহকের কাছে উন্নত সেবা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সেবা নিজেদের প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করছে বিকাশ। এর মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে টেকসই করার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বিকাশ অ্যাপে যুক্ত হলো ট্রাস্ট ব্যাংকের বিভিন্ন সেবা।

রাজধানীর একটি হোটেলে ‘এক্সপান্ডিং অ্যাক্সেস, এম্পাওয়ারিং পসিবিলিটিজ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে দুই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এ যৌথ উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যৌথ সেবার উদ্বোধন করেন ট্রাস্ট ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ও আরিফ হোসেন খান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান জামান চৌধুরী এবং বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ট্রাস্ট ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ বলেন, ‘প্রযুক্তি এখন আর্থিক লেনদেনের ধরন বদলে দিয়েছে। এরপরও অনেকের জন্য প্রয়োজনের সময় সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সীমিত আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই আমাদের আজকের এই যৌথ উদ্যোগ।’

তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাস্ট ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীল ব্যাংকিং সেবা দিয়ে আসছে, অন্যদিকে বিকাশ দেশের অসংখ্য মানুষের দৈনন্দিন লেনদেন সহজ করেছে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে আরও বেশি মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়া যাবে।’

বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিকাশের অগ্রযাত্রা দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে ত্বরান্বিত করেছে। তাদের সঙ্গে ট্রাস্ট ব্যাংকের অংশীদারত্ব এই অন্তর্ভুক্তিকে আরও জোরদার করবে বলেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা আশা করছে। মানুষের জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগে দুটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের যৌথভাবে কাজ করাটা আশাব্যঞ্জক।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের আরেক নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের ঋণব্যবস্থা প্রচলিত আছে। “ন্যানো লোন” অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণের ধারণা থেকে এসেছে। মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে প্রতিষ্ঠান দুটি যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার সফলতা কামনা করছি। অতিপ্রয়োজনীয় সেবা প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে এবং দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।’

ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান জামান চৌধুরী বলেন, ‘এই অংশীদারত্বের মূল ভাবনা ছিল সহজ। ট্রাস্ট ব্যাংকের আছে আস্থা, দীর্ঘ ব্যাংকিং এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে, বিকাশের আছে দেশব্যাপী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, এজেন্ট নেটওয়ার্ক এবং মানুষের আস্থা। এই আস্থার ওপর ভর করেই দুই প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে ব্যাংকিং সেবা এখন প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছাবে। এজেন্ট বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁর প্রয়োজনের সময় এখন বিকাশ অ্যাপ থেকেই ট্রাস্ট ব্যাংকের লোন নিতে পারবেন। পাশাপাশি, ডিপিএস, এফডিআর ও পে-লেটারের সেবা গ্রাহকের লেনদেন সহজ করবে।’

বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর বলেন, ‘প্রযুক্তি আমাদের সঠিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে সাহায্য করছে। ফলে এখন যে কেউ ১০ হাজার টাকার এফডিআরও খুলতে পারছেন। এই ধরনের প্রযুক্তি বিভিন্ন বাধা দূর করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সৃজনশীল, নিয়মসম্মত ও উপযুক্ত আর্থিক সেবা পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে। যখন সঠিক সুযোগ তৈরি হয়, তখন সবাই সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন। তাই আজ আমরা মানুষের জন্য সুযোগ উন্মুক্ত করে দিচ্ছি।’

বিকাশ অ্যাপে ট্রাস্ট ব্যাংকের যেসব সেবা যুক্ত হচ্ছে

ডিপিএস: বিকাশ অ্যাপ থেকে এখন ট্রাস্ট ব্যাংকের মাসিক ডিপিএস খুলতে পারছেন গ্রাহকেরা। ৫০০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্কের ও মেয়াদের ডিপিএস খোলার সুযোগ রয়েছে।

এফডিআর: বিভিন্ন মেয়াদ ও অঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট বা এফডিআর সেবা শিগগিরই চালু হবে।

এজেন্ট লোন: বিকাশ এজেন্টদের জন্য ট্রাস্ট ব্যাংকের ঋণসেবা চালু হবে। এজেন্টরা সরাসরি তাঁদের এজেন্ট অ্যাপ থেকেই জামানতবিহীন এ ঋণ নিতে ও পরিশোধ করতে পারবেন।

গ্রাহক লোন: নির্বাচিত গ্রাহকেরা বিকাশ অ্যাপ থেকেই ট্রাস্ট ব্যাংকের জামানতবিহীন ঋণ নিতে পারবেন।

পে-লেটার: ট্রাস্ট ব্যাংকের ঋণসেবার আওতায় বিকাশ অ্যাপে পেমেন্ট ও মোবাইল রিচার্জের জন্য পে-লেটার সেবা চালু হবে। এ সেবার মাধ্যমে গ্রাহকেরা ঋণসীমার মধ্যে কোনো পণ্য বা সেবা কিনে পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে সুদ ছাড়াই পুরো অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। চাইলে সহজ মাসিক কিস্তিতেও অর্থ পরিশোধ করা যাবে।

রেমিট্যান্স: প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ করতেও একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে প্রতিষ্ঠান দুটি।

বর্তমানে বিকাশের ৮ কোটি ৫০ লাখ গ্রাহক অ্যাপ থেকেই ট্রাস্ট ব্যাংকসহ আরও পাঁচটি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঞ্চয় ও ঋণসহ বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা নিতে পারছেন।

২০২১ সালে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের মাসিক ডিপিএস সেবার মাধ্যমে বিকাশের ডিজিটাল সঞ্চয় কার্যক্রম শুরু হয়। পরে পর্যায়ক্রমে এ সেবায় যুক্ত হয়েছে ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক।

Share this news as a Photo Card

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বাবা হিসেবে ভিকি কৌশলের দায়িত্ববোধে মুগ্ধ ক্যাটরিনা

28 October 2026

বিকাশ অ্যাপে যুক্ত হলো ট্রাস্ট ব্যাংকের সঞ্চয় সেবা, আসছে ঋণ ও পে-লেটার

www.hostbuybd.com

বিকাশ অ্যাপে যুক্ত হলো ট্রাস্ট ব্যাংকের সঞ্চয় সেবা, আসছে ঋণ ও পে-লেটার

Update Time : ০৭:৫০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের অ্যাপে যুক্ত হয়েছে ট্রাস্ট ব্যাংকের সঞ্চয় সেবা। পর্যায়ক্রমে ব্যাংকটির ঋণ, পে-লেটারসহ অন্যান্য সেবাও বিকাশ অ্যাপে যুক্ত হবে। সব ধরনের গ্রাহকের জন্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ সহজ করতে যৌথভাবে এ উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাস্ট ব্যাংক ও বিকাশ।

আর্থিক খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে আরও বেশি গ্রাহকের কাছে উন্নত সেবা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সেবা নিজেদের প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করছে বিকাশ। এর মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে টেকসই করার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বিকাশ অ্যাপে যুক্ত হলো ট্রাস্ট ব্যাংকের বিভিন্ন সেবা।

রাজধানীর একটি হোটেলে ‘এক্সপান্ডিং অ্যাক্সেস, এম্পাওয়ারিং পসিবিলিটিজ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে দুই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এ যৌথ উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যৌথ সেবার উদ্বোধন করেন ট্রাস্ট ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ও আরিফ হোসেন খান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান জামান চৌধুরী এবং বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ট্রাস্ট ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ বলেন, ‘প্রযুক্তি এখন আর্থিক লেনদেনের ধরন বদলে দিয়েছে। এরপরও অনেকের জন্য প্রয়োজনের সময় সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সীমিত আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই আমাদের আজকের এই যৌথ উদ্যোগ।’

তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাস্ট ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীল ব্যাংকিং সেবা দিয়ে আসছে, অন্যদিকে বিকাশ দেশের অসংখ্য মানুষের দৈনন্দিন লেনদেন সহজ করেছে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে আরও বেশি মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়া যাবে।’

বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিকাশের অগ্রযাত্রা দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে ত্বরান্বিত করেছে। তাদের সঙ্গে ট্রাস্ট ব্যাংকের অংশীদারত্ব এই অন্তর্ভুক্তিকে আরও জোরদার করবে বলেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা আশা করছে। মানুষের জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগে দুটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের যৌথভাবে কাজ করাটা আশাব্যঞ্জক।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের আরেক নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের ঋণব্যবস্থা প্রচলিত আছে। “ন্যানো লোন” অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণের ধারণা থেকে এসেছে। মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে প্রতিষ্ঠান দুটি যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার সফলতা কামনা করছি। অতিপ্রয়োজনীয় সেবা প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে এবং দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।’

ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান জামান চৌধুরী বলেন, ‘এই অংশীদারত্বের মূল ভাবনা ছিল সহজ। ট্রাস্ট ব্যাংকের আছে আস্থা, দীর্ঘ ব্যাংকিং এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে, বিকাশের আছে দেশব্যাপী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, এজেন্ট নেটওয়ার্ক এবং মানুষের আস্থা। এই আস্থার ওপর ভর করেই দুই প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে ব্যাংকিং সেবা এখন প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছাবে। এজেন্ট বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁর প্রয়োজনের সময় এখন বিকাশ অ্যাপ থেকেই ট্রাস্ট ব্যাংকের লোন নিতে পারবেন। পাশাপাশি, ডিপিএস, এফডিআর ও পে-লেটারের সেবা গ্রাহকের লেনদেন সহজ করবে।’

বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর বলেন, ‘প্রযুক্তি আমাদের সঠিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে সাহায্য করছে। ফলে এখন যে কেউ ১০ হাজার টাকার এফডিআরও খুলতে পারছেন। এই ধরনের প্রযুক্তি বিভিন্ন বাধা দূর করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সৃজনশীল, নিয়মসম্মত ও উপযুক্ত আর্থিক সেবা পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে। যখন সঠিক সুযোগ তৈরি হয়, তখন সবাই সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন। তাই আজ আমরা মানুষের জন্য সুযোগ উন্মুক্ত করে দিচ্ছি।’

বিকাশ অ্যাপে ট্রাস্ট ব্যাংকের যেসব সেবা যুক্ত হচ্ছে

ডিপিএস: বিকাশ অ্যাপ থেকে এখন ট্রাস্ট ব্যাংকের মাসিক ডিপিএস খুলতে পারছেন গ্রাহকেরা। ৫০০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্কের ও মেয়াদের ডিপিএস খোলার সুযোগ রয়েছে।

এফডিআর: বিভিন্ন মেয়াদ ও অঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট বা এফডিআর সেবা শিগগিরই চালু হবে।

এজেন্ট লোন: বিকাশ এজেন্টদের জন্য ট্রাস্ট ব্যাংকের ঋণসেবা চালু হবে। এজেন্টরা সরাসরি তাঁদের এজেন্ট অ্যাপ থেকেই জামানতবিহীন এ ঋণ নিতে ও পরিশোধ করতে পারবেন।

গ্রাহক লোন: নির্বাচিত গ্রাহকেরা বিকাশ অ্যাপ থেকেই ট্রাস্ট ব্যাংকের জামানতবিহীন ঋণ নিতে পারবেন।

পে-লেটার: ট্রাস্ট ব্যাংকের ঋণসেবার আওতায় বিকাশ অ্যাপে পেমেন্ট ও মোবাইল রিচার্জের জন্য পে-লেটার সেবা চালু হবে। এ সেবার মাধ্যমে গ্রাহকেরা ঋণসীমার মধ্যে কোনো পণ্য বা সেবা কিনে পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে সুদ ছাড়াই পুরো অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। চাইলে সহজ মাসিক কিস্তিতেও অর্থ পরিশোধ করা যাবে।

রেমিট্যান্স: প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ করতেও একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে প্রতিষ্ঠান দুটি।

বর্তমানে বিকাশের ৮ কোটি ৫০ লাখ গ্রাহক অ্যাপ থেকেই ট্রাস্ট ব্যাংকসহ আরও পাঁচটি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঞ্চয় ও ঋণসহ বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা নিতে পারছেন।

২০২১ সালে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের মাসিক ডিপিএস সেবার মাধ্যমে বিকাশের ডিজিটাল সঞ্চয় কার্যক্রম শুরু হয়। পরে পর্যায়ক্রমে এ সেবায় যুক্ত হয়েছে ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক।

Share this news as a Photo Card