Dhaka ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনাম
বুয়েটের ডিগ্রি, ছেড়েছেন লোভনীয় চাকরি—প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষক নায়লা শারাফ ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গাপূজার ছুটি বাড়ল এক দিন, ২০–২৪ অক্টোবর টানা ছুটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে ২০২৬ সালের নোবেল পেলেন ডেইসেরথ, হেগেম্যান ও নাগেল বিসিআইসির চেয়ারম্যান হলেন অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিঞা শিক্ষকতা ‘উপায়হীন বিকল্প’ নয়, মেধাবীদের প্রথম পছন্দ করতে হবে: তারেক রহমান ধানমন্ডিতে যাত্রা শুরু করল আকিজ ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডারে ২৫২ টাকা বাড়ল, নতুন দাম ১,৮৩৭ টাকা ডিআইজি-অতিরিক্ত ডিআইজিসহ পুলিশের ২৪ কর্মকর্তাকে বদলি যানজট নিরসনে ইনার সার্কুলার রিং রোডের কাজ দ্রুত শেষের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জবির সিঁড়িতে ৪০ মক ভাইভা, চার বন্ধুর স্বপ্নপূরণের গল্প

কনকনে শীতের দিন। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএস) লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে। সামনে মৌখিক পরীক্ষা। বিচারক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর চারজন নিয়ম করে বসতেন মক ভাইভায়। একজন প্রার্থীর ভূমিকায় সামনে বসতেন, আর বাকি তিনজন করতেন প্রশ্ন। কখনো আইনি বিষয়, কখনো সাধারণ জ্ঞান ও সমসাময়িক বিষয়—এভাবেই একে অন্যকে প্রস্তুত করতে প্রায় ৪০টি মক ভাইভা দিয়েছিলেন তাঁরা।

২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) থেকে নয়জন প্রার্থী সিভিল জজ হিসেবে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মো. মামুন শেখ ৯ম এবং মৃণাল ডাকুয়া ১১৪তম মেধাস্থান অর্জন করেছেন। এর আগে ১৭তম বিজেএসে বৈশাখী কর্মকার ও ছোটন মিয়া সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে বিচারক হন। এভাবেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল অডিটোরিয়ামের সিঁড়িতে বসে ভাইবার প্রস্তুতি নেওয়া চার বন্ধুর।

চার বন্ধুর মধ্যে বৈশাখী কর্মকার ও ছোটন মিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। একই শিক্ষাবর্ষের আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মৃণাল ডাকুয়া। তাঁদের সিনিয়র মো. মামুন শেখ আইন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

লিখিত পরীক্ষা শেষে কম সময়ে নিজেদের প্রস্তুতি, সংগ্রাম ও স্বপ্নজয়ের পেছনের গল্প জানিয়েছেন তাঁরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে সাফল্য অর্জনের পর বিচার বিভাগে প্রবেশের পরীক্ষাতেও নিজের অবস্থানের স্বাক্ষর রেখেছেন মো. মামুন শেখ। এবার বিজেএসের মেধাতালিকায় নবম স্থান অধিকার করেছেন তিনি।

স্বপ্নজয়ের সেই মুহূর্তের অনুভূতি ঢাকা পোস্টের সঙ্গে শেয়ার করে মামুন শেখ বলেন, ‘আমরা সবাই আশা করেছিলাম, ইনশাআল্লাহ চারজনই জজ হয়ে যাব। কিন্তু রিজিকের বিষয়টা ওপর থেকে নির্ধারিত। শেষ পর্যন্ত দুইজন রেকমেন্ডেড হয়েছে। আমরা দুজন হাল ছাড়িনি। আমি আর মৃণাল আবার নতুনভাবে শুরু করি। আল্লাহর অশেষ রহমতে ১৮তম বিজেএসে আমরা দুজনই সফল হয়েছি।’

এদিকে ১১৪তম মেধাস্থান অর্জন করেছেন আরেক শিক্ষার্থী মৃণাল ডাকুয়া। চার বন্ধুর মক ভাইভা প্রস্তুতির পেছনের গল্পও ঢাকা পোস্টের সঙ্গে শেয়ার করেছেন তিনি।

মৃণাল বলেন, ‘শুরুটা করেছিলাম আমরা তিনজন মিলে ১৭তম বিজেএসের রিটেনের পরে। পরবর্তী সময়ে মামুন ভাই আমাদের সঙ্গে জয়েন করেন। আমরা একে অন্যের সঙ্গে এমন আন্ডারস্ট্যান্ডিং তৈরি হয়ে যায় যে সিনিয়র-জুনিয়র ভেদাভেদ থাকে না আমাদের মাঝে। শুরুতে শহীদ মিনারের পাদদেশে বসতাম। কিন্তু শীতের মধ্যে খোলা জায়গায় এক-দেড় ঘণ্টা বসে থাকা যেত না। চিন্তা করলাম, কোথায় বসা যায়। পরে অডিটোরিয়ামের সিঁড়িতে বসে প্র্যাকটিস শুরু করি।’

আসল ভাইভা বোর্ডের অনুভূতি ও প্রস্তুতি নিতেই মক ভাইভা শুরু করেছিলেন বলে জানান মৃণাল। তিনি বলেন, ‘খুবই সিরিয়াস জায়গা থেকে আমরা এটা শুরু করি। একটা সিরিয়াসনেস ছিল যে একজন আসলেও আমরা একজন নিয়েই বোর্ড গঠন করব। নির্দিষ্ট একটা শিডিউল তৈরি করে পড়া দিতাম যে আজকে এই জায়গা থেকে ২০টা সেকশন থাকবে, জেনারেল এইটুকু পড়া থাকবে। এরপর আমরা প্রিপারেশন নিয়ে আসতাম নির্দিষ্ট দিনে। পরে একজন সামনে যেত, বাকি তিনজন একটা ভাইভা বোর্ডের মতো করে বসতাম। একেবারে টোটাল কনসেন্ট্রেশন নিয়ে জাস্টিসদের মতো কোশ্চেন করা হতো। আমরা চেষ্টা করতাম যে নিজেকে ধরে রেখে গম্ভীর আচরণ করার। এমনভাবে করতাম যেন ওই জায়গায় বসলে একটা ভাইভা বোর্ডের ফ্লেভার চলে আসে।’

মৃণালের বিচারক হওয়ার গল্পে আছে স্বপ্ন বদলে যাওয়ার অধ্যায়ও। একসময় তাঁর স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়ার।

স্বপ্নজয়ের পথে অন্তরায় থাকা সত্ত্বেও নিজের মনোবল ধরে রাখার বিষয়ে মৃণাল ডাকুয়া বলেন, ‘কলেজে ভর্তি হওয়ার সময় আমার ইচ্ছা ছিল মেডিকেলে পড়ব। কিন্তু এসএসসির রেজাল্টের কারণে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় আমি অনেকটা পিছিয়ে যাই। পরিবার থেকেও অনেক কথা শুনতে হয়েছে, কারণ সবাই চেয়েছিল আমি মেডিকেলের জন্য প্রস্তুতি নিই। পরে এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে আইন ও ভূমি প্রশাসন বিষয়টি পছন্দের তালিকায় দিই। এরপর এই বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করার পর ধীরে ধীরে জুডিশিয়ারির দিকে আগ্রহ তৈরি হয়।’

তিনি বলেন, ‘জুডিশিয়াল সার্ভিসে আসার পথটাও সহজ ছিল না আমার জন্য। ১৬তম ও ১৭তম বিজেএসে রিটেন দিয়েছি। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। ১৮তম বিজেএস ছিল আমার চতুর্থবারের পরীক্ষা এবং তৃতীয় ভাইভা। যত যাই হয়েছে, মনোবল হারাইনি আমি। আলহামদুলিল্লাহ, ১৮তম বিজেএসে সফল হয়েছি। বিচারক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।’

মৃণাল ও মামুনের সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছেন তাঁদের মক ভাইভার সঙ্গী ছোটন মিয়া। ১৭তম বিজেএসের ভাইভার আগে তোলা চার বন্ধুর একটি ছবি নিজের ফেসবুক পোস্টে দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘চারজন মিলে প্রায় ৩০-৪০টি মক ভাইভা দিয়েছিলাম। আমি ও বৈশাখী ১৭তম বিজেএসেই সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। এবার মৃণাল ও মামুনও বিচারক হওয়ায় ছবিটি পূর্ণতা পেয়েছে।’

অভিনন্দন জানিয়ে ছোটন লেখেন, ‘কী যে ভালো লাগছে, বলে বোঝানো সম্ভব না।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের চার বন্ধুর সাফল্য একই সঙ্গে সহপাঠী ও পরবর্তী ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার একটি গল্প।

Share this news as a Photo Card

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বুয়েটের ডিগ্রি, ছেড়েছেন লোভনীয় চাকরি—প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষক নায়লা শারাফ

04 October 2026

যানজট নিরসনে ইনার সার্কুলার রিং রোডের কাজ দ্রুত শেষের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

www.hostbuybd.com

জবির সিঁড়িতে ৪০ মক ভাইভা, চার বন্ধুর স্বপ্নপূরণের গল্প

Update Time : ০৭:৫২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কনকনে শীতের দিন। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএস) লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে। সামনে মৌখিক পরীক্ষা। বিচারক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর চারজন নিয়ম করে বসতেন মক ভাইভায়। একজন প্রার্থীর ভূমিকায় সামনে বসতেন, আর বাকি তিনজন করতেন প্রশ্ন। কখনো আইনি বিষয়, কখনো সাধারণ জ্ঞান ও সমসাময়িক বিষয়—এভাবেই একে অন্যকে প্রস্তুত করতে প্রায় ৪০টি মক ভাইভা দিয়েছিলেন তাঁরা।

২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) থেকে নয়জন প্রার্থী সিভিল জজ হিসেবে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মো. মামুন শেখ ৯ম এবং মৃণাল ডাকুয়া ১১৪তম মেধাস্থান অর্জন করেছেন। এর আগে ১৭তম বিজেএসে বৈশাখী কর্মকার ও ছোটন মিয়া সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে বিচারক হন। এভাবেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল অডিটোরিয়ামের সিঁড়িতে বসে ভাইবার প্রস্তুতি নেওয়া চার বন্ধুর।

চার বন্ধুর মধ্যে বৈশাখী কর্মকার ও ছোটন মিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। একই শিক্ষাবর্ষের আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মৃণাল ডাকুয়া। তাঁদের সিনিয়র মো. মামুন শেখ আইন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

লিখিত পরীক্ষা শেষে কম সময়ে নিজেদের প্রস্তুতি, সংগ্রাম ও স্বপ্নজয়ের পেছনের গল্প জানিয়েছেন তাঁরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে সাফল্য অর্জনের পর বিচার বিভাগে প্রবেশের পরীক্ষাতেও নিজের অবস্থানের স্বাক্ষর রেখেছেন মো. মামুন শেখ। এবার বিজেএসের মেধাতালিকায় নবম স্থান অধিকার করেছেন তিনি।

স্বপ্নজয়ের সেই মুহূর্তের অনুভূতি ঢাকা পোস্টের সঙ্গে শেয়ার করে মামুন শেখ বলেন, ‘আমরা সবাই আশা করেছিলাম, ইনশাআল্লাহ চারজনই জজ হয়ে যাব। কিন্তু রিজিকের বিষয়টা ওপর থেকে নির্ধারিত। শেষ পর্যন্ত দুইজন রেকমেন্ডেড হয়েছে। আমরা দুজন হাল ছাড়িনি। আমি আর মৃণাল আবার নতুনভাবে শুরু করি। আল্লাহর অশেষ রহমতে ১৮তম বিজেএসে আমরা দুজনই সফল হয়েছি।’

এদিকে ১১৪তম মেধাস্থান অর্জন করেছেন আরেক শিক্ষার্থী মৃণাল ডাকুয়া। চার বন্ধুর মক ভাইভা প্রস্তুতির পেছনের গল্পও ঢাকা পোস্টের সঙ্গে শেয়ার করেছেন তিনি।

মৃণাল বলেন, ‘শুরুটা করেছিলাম আমরা তিনজন মিলে ১৭তম বিজেএসের রিটেনের পরে। পরবর্তী সময়ে মামুন ভাই আমাদের সঙ্গে জয়েন করেন। আমরা একে অন্যের সঙ্গে এমন আন্ডারস্ট্যান্ডিং তৈরি হয়ে যায় যে সিনিয়র-জুনিয়র ভেদাভেদ থাকে না আমাদের মাঝে। শুরুতে শহীদ মিনারের পাদদেশে বসতাম। কিন্তু শীতের মধ্যে খোলা জায়গায় এক-দেড় ঘণ্টা বসে থাকা যেত না। চিন্তা করলাম, কোথায় বসা যায়। পরে অডিটোরিয়ামের সিঁড়িতে বসে প্র্যাকটিস শুরু করি।’

আসল ভাইভা বোর্ডের অনুভূতি ও প্রস্তুতি নিতেই মক ভাইভা শুরু করেছিলেন বলে জানান মৃণাল। তিনি বলেন, ‘খুবই সিরিয়াস জায়গা থেকে আমরা এটা শুরু করি। একটা সিরিয়াসনেস ছিল যে একজন আসলেও আমরা একজন নিয়েই বোর্ড গঠন করব। নির্দিষ্ট একটা শিডিউল তৈরি করে পড়া দিতাম যে আজকে এই জায়গা থেকে ২০টা সেকশন থাকবে, জেনারেল এইটুকু পড়া থাকবে। এরপর আমরা প্রিপারেশন নিয়ে আসতাম নির্দিষ্ট দিনে। পরে একজন সামনে যেত, বাকি তিনজন একটা ভাইভা বোর্ডের মতো করে বসতাম। একেবারে টোটাল কনসেন্ট্রেশন নিয়ে জাস্টিসদের মতো কোশ্চেন করা হতো। আমরা চেষ্টা করতাম যে নিজেকে ধরে রেখে গম্ভীর আচরণ করার। এমনভাবে করতাম যেন ওই জায়গায় বসলে একটা ভাইভা বোর্ডের ফ্লেভার চলে আসে।’

মৃণালের বিচারক হওয়ার গল্পে আছে স্বপ্ন বদলে যাওয়ার অধ্যায়ও। একসময় তাঁর স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়ার।

স্বপ্নজয়ের পথে অন্তরায় থাকা সত্ত্বেও নিজের মনোবল ধরে রাখার বিষয়ে মৃণাল ডাকুয়া বলেন, ‘কলেজে ভর্তি হওয়ার সময় আমার ইচ্ছা ছিল মেডিকেলে পড়ব। কিন্তু এসএসসির রেজাল্টের কারণে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় আমি অনেকটা পিছিয়ে যাই। পরিবার থেকেও অনেক কথা শুনতে হয়েছে, কারণ সবাই চেয়েছিল আমি মেডিকেলের জন্য প্রস্তুতি নিই। পরে এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে আইন ও ভূমি প্রশাসন বিষয়টি পছন্দের তালিকায় দিই। এরপর এই বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করার পর ধীরে ধীরে জুডিশিয়ারির দিকে আগ্রহ তৈরি হয়।’

তিনি বলেন, ‘জুডিশিয়াল সার্ভিসে আসার পথটাও সহজ ছিল না আমার জন্য। ১৬তম ও ১৭তম বিজেএসে রিটেন দিয়েছি। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। ১৮তম বিজেএস ছিল আমার চতুর্থবারের পরীক্ষা এবং তৃতীয় ভাইভা। যত যাই হয়েছে, মনোবল হারাইনি আমি। আলহামদুলিল্লাহ, ১৮তম বিজেএসে সফল হয়েছি। বিচারক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।’

মৃণাল ও মামুনের সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছেন তাঁদের মক ভাইভার সঙ্গী ছোটন মিয়া। ১৭তম বিজেএসের ভাইভার আগে তোলা চার বন্ধুর একটি ছবি নিজের ফেসবুক পোস্টে দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘চারজন মিলে প্রায় ৩০-৪০টি মক ভাইভা দিয়েছিলাম। আমি ও বৈশাখী ১৭তম বিজেএসেই সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। এবার মৃণাল ও মামুনও বিচারক হওয়ায় ছবিটি পূর্ণতা পেয়েছে।’

অভিনন্দন জানিয়ে ছোটন লেখেন, ‘কী যে ভালো লাগছে, বলে বোঝানো সম্ভব না।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের চার বন্ধুর সাফল্য একই সঙ্গে সহপাঠী ও পরবর্তী ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার একটি গল্প।

Share this news as a Photo Card