Dhaka ১১:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনাম
বিয়ে নিয়ে কেয়া পায়েলের ভাবনা, জীবনসঙ্গী হিসেবে চান বিশ্বাস ও সম্মান জনকল্যাণমূলক কাজে সরকারকে সহযোগিতা করবে জামায়াত: গোলাম পরওয়ার মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের পাশে নাগরিক উদ্যোগ নিল বিএমইউ বুয়েটের ডিগ্রি, ছেড়েছেন লোভনীয় চাকরি—প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষক নায়লা শারাফ ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গাপূজার ছুটি বাড়ল এক দিন, ২০–২৪ অক্টোবর টানা ছুটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে ২০২৬ সালের নোবেল পেলেন ডেইসেরথ, হেগেম্যান ও নাগেল বিসিআইসির চেয়ারম্যান হলেন অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিঞা শিক্ষকতা ‘উপায়হীন বিকল্প’ নয়, মেধাবীদের প্রথম পছন্দ করতে হবে: তারেক রহমান ধানমন্ডিতে যাত্রা শুরু করল আকিজ ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার

যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে ফিরেও হতাশ সুদানের রাজধানীর বাসিন্দারা, সংকটে জীবনযাপন

  • Md Sadikul islam (shopnil)
  • Update Time : ০৭:০৬:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ Time View

যুদ্ধবিধ্বস্ত রাজধানী শহরে নতুন করে জীবন গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ঘরে ফিরেছেন বাসিন্দারা। কিন্তু বিদ্যুৎ, পানি, কর্মসংস্থান ও ওষুধের দীর্ঘস্থায়ী সংকটে সুদানের রাজধানী খার্তুমের অনেক বাসিন্দাই এখন মনে করছেন, ফিরে না এলেই ভালো হতো।

২০২৩ সালে সেনাবাহিনী ও একটি আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে খার্তুম থেকে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ পালিয়ে যায়। ওই সংঘাতে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

খার্তুম থেকে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

তবে গত বছর সেনাবাহিনী খার্তুম পুনর্দখল করার পর আনুমানিক ২৭ লাখ মানুষ ফিরে এসেছে। ঘরে ফেরার আনন্দের সঙ্গে তাদের এখন সেখানে বসবাসের কঠিন বাস্তবতারও মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ী ইমাদ খালেদ তাঁর পরিবারকে আবার মিসরে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। তবে কাজের জন্য তিনি খার্তুমেই থাকছেন।

৪৩ বছর বয়সী ইমাদ শহরের কেন্দ্রের কাছে এএফপিকে বলেন, ‘পরিবারকে ফিরিয়ে আনা ভুল হয়েছিল।’ শহরের কেন্দ্রজুড়ে কালো হয়ে যাওয়া ও বোমায় বিধ্বস্ত ভবন দেখা যায়।

খার্তুমে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ পাওয়া একাধিক সরকারি কর্মকর্তাও এএফপিকে জানিয়েছেন, তাঁরাও তাঁদের পরিবারকে দেশের বাইরে রেখে যাচ্ছেন।

সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে সুদানের অন্য এলাকাতেও এখনো লড়াই চলছে। এর মধ্যে রয়েছে দারফুর, কোর্দোফান ও ব্লু নাইল অঞ্চল।

খার্তুমের বাসিন্দাদের ফিরে আসতে জোরালোভাবে উৎসাহিত করছে সেনাবাহিনী। তারা বিমানবন্দর পুনর্নির্মাণ করে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য খুলে দিয়েছে। অবকাঠামোরও কিছু সংস্কার করা হয়েছে।

তবে বিদ্যুৎ ও পানি এখনো একটানা কয়েক দিন পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন থাকে। রাজধানীজুড়ে বাজারগুলো আবার খুললেও অনেক মানুষ বেকার। তাঁদের কেনাকাটার সামর্থ্যও কম।

‘প্রতিদিনই দাম বাড়ছে’

জুন নাগাদ খার্তুমের মাত্র এক শতাংশ এলাকাকে নিরাপদ ঘোষণা করেছিল জাতিসংঘ। শহরের দেয়ালের ভেতর ও রাস্তার মোড়ে পড়ে থাকা বিস্ফোরক ফাঁদ ও অবিস্ফোরিত গোলার কারণে বহু শিশু নিহত ও আহত হয়েছে।

প্রতিবেশী মিসর থেকে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ফিরে এসেছে। মিসরে ১৫ লাখ সুদানি আশ্রয় নিয়েছিল। তবে সেখানে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া, বর্ণবাদী নিপীড়ন, গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের মুখে পড়তে হয়েছে।

খার্তুমের শ্রমজীবী এলাকাগুলোতেই সবচেয়ে বেশি মানুষ ফিরেছে। আর যাদের সামর্থ্য রয়েছে, তাঁদের বেশিরভাগই এখনো বাইরে থাকছেন।

ফলে খার্তুম-২-এর মতো অভিজাত এলাকাগুলো প্রায় পরিত্যক্ত। গাছঘেরা সড়কে হাঁটলে পায়ের নিচে কাচ ভাঙার শব্দ শোনা যায়। খালি বাড়িগুলোর মাঝখানে শুধু পাখির ডাক। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অনেক বাড়ির পুরো অংশই উড়ে গেছে।

৮৬ বছর বয়সী থুরায়া বাবিকার ভেবেছিলেন, এবার তিনি স্থায়ীভাবেই ফিরেছেন। কিন্তু তিন মাস পর তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আমার স্বামী, ছোট মেয়ে এবং আমি সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যেতে চাই না।’ তবে চিকিৎসাসেবার অভাবে সেখানে থাকা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

গত বছর মানুষ ফিরতে শুরু করলে সুদানের বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা হাসপাতাল পুনর্নির্মাণে দ্রুত কাজ শুরু করে।

স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, এর কয়েকটি এখন ‘আগের চেয়েও ভালো হয়েছে’।

তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও চিকিৎসক হাইফা ওমর বলেন, কিছু জিনিস একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘কিছু ওষুধ রোগীদের নিজেদের টাকায় কিনতে বলতে হচ্ছে। কথাটা বলতে গেলেই আমার গলা ধরে আসে। আমরা জানি, মানুষের পরিস্থিতি কতটা কঠিন।’

কলেজের অধ্যাপক ইমাম বাবিকার বাবার রক্তচাপের ওষুধ খুঁজতে তাঁকে ১০টি ফার্মেসিতে যেতে হয়। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই এর দাম আলাদা।’

৩৪ বছর বয়সী ইমাম তাঁর ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মায়ের ইনসুলিন রাখার জন্য একটি ফ্রিজ কিনেছিলেন। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘কিন্তু প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে ইনসুলিন নষ্ট হয়ে যায়।’

সুয়াদ মোহামেদের মতো অন্যদের ফ্রিজও লুট হয়ে গেছে। ৪৯ বছর বয়সী সুয়াদ নতুন ফ্রিজ কেনার সামর্থ্য রাখেন না।

তিনি বলেন, ‘এখন আমাকে প্রতিদিন সবজি ও মাংস কিনতে হয়। আর প্রতিদিনই দাম বাড়ছে।’

‘বাস্তবতা মোটেও ভালো নয়’

একসময় ৮ লাখেরও বেশি মানুষের বাসস্থান আফ্রিকার অন্যতম প্রধান রাজধানী খার্তুম এখন তার আগের রূপের ছায়ামাত্র।

শহরের কেন্দ্রে জাতিসংঘের এক অভিজ্ঞ কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ইউক্রেনসহ তারা যে অন্য সব সংকট দেখেছেন, তার তুলনায় খার্তুমে ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা অনেক বেশি।

মাঝেমধ্যে আরএসএফের ড্রোন হামলা চললেও জুলাইয়ে কর্তৃপক্ষ দূরশিক্ষণ বন্ধ করে দেওয়ার পর খার্তুম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ফিরতে বলা হয়েছে।

খার্তুম বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিজ্ঞানের অধ্যাপকেরা প্রতিবাদ হিসেবে একযোগে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরাও অভিযোগ করছেন, তাঁদের জোর করে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

একজন মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এএফপিকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে অনলাইনে গবেষণাপত্রের মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না। অথচ আমার তত্ত্বাবধায়কও অন্য একটি দেশে আছেন এবং তিনিও ফিরতে চান না।’ পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি এ কথা বলেন।

ব্যবস্থাপনা বিভাগের একজন স্নাতক শিক্ষার্থীর এ বছর তাঁর শেষ বর্ষে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু গ্রীষ্মের সশরীরে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তিনি। এখন নতুন করে কলেজ শুরু করতে মিসরে বৃত্তির জন্য চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের কথা শুনতে চায়নি। তাদের একমাত্র চিন্তা ছিল মানুষ যেন ফিরে আসে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে বিষয়টি রাজনৈতিক। তারা চায় মানুষ ফিরে আসুক, যাতে দেখানো যায় সবকিছু ঠিকঠাক চলছে। অথচ বাস্তবতা মোটেও ভালো নয়।’

Share this news as a Photo Card

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বিয়ে নিয়ে কেয়া পায়েলের ভাবনা, জীবনসঙ্গী হিসেবে চান বিশ্বাস ও সম্মান

04 October 2026

ধানমন্ডিতে যাত্রা শুরু করল আকিজ ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার

www.hostbuybd.com

যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে ফিরেও হতাশ সুদানের রাজধানীর বাসিন্দারা, সংকটে জীবনযাপন

Update Time : ০৭:০৬:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুদ্ধবিধ্বস্ত রাজধানী শহরে নতুন করে জীবন গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ঘরে ফিরেছেন বাসিন্দারা। কিন্তু বিদ্যুৎ, পানি, কর্মসংস্থান ও ওষুধের দীর্ঘস্থায়ী সংকটে সুদানের রাজধানী খার্তুমের অনেক বাসিন্দাই এখন মনে করছেন, ফিরে না এলেই ভালো হতো।

২০২৩ সালে সেনাবাহিনী ও একটি আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে খার্তুম থেকে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ পালিয়ে যায়। ওই সংঘাতে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

খার্তুম থেকে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

তবে গত বছর সেনাবাহিনী খার্তুম পুনর্দখল করার পর আনুমানিক ২৭ লাখ মানুষ ফিরে এসেছে। ঘরে ফেরার আনন্দের সঙ্গে তাদের এখন সেখানে বসবাসের কঠিন বাস্তবতারও মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ী ইমাদ খালেদ তাঁর পরিবারকে আবার মিসরে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। তবে কাজের জন্য তিনি খার্তুমেই থাকছেন।

৪৩ বছর বয়সী ইমাদ শহরের কেন্দ্রের কাছে এএফপিকে বলেন, ‘পরিবারকে ফিরিয়ে আনা ভুল হয়েছিল।’ শহরের কেন্দ্রজুড়ে কালো হয়ে যাওয়া ও বোমায় বিধ্বস্ত ভবন দেখা যায়।

খার্তুমে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ পাওয়া একাধিক সরকারি কর্মকর্তাও এএফপিকে জানিয়েছেন, তাঁরাও তাঁদের পরিবারকে দেশের বাইরে রেখে যাচ্ছেন।

সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে সুদানের অন্য এলাকাতেও এখনো লড়াই চলছে। এর মধ্যে রয়েছে দারফুর, কোর্দোফান ও ব্লু নাইল অঞ্চল।

খার্তুমের বাসিন্দাদের ফিরে আসতে জোরালোভাবে উৎসাহিত করছে সেনাবাহিনী। তারা বিমানবন্দর পুনর্নির্মাণ করে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য খুলে দিয়েছে। অবকাঠামোরও কিছু সংস্কার করা হয়েছে।

তবে বিদ্যুৎ ও পানি এখনো একটানা কয়েক দিন পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন থাকে। রাজধানীজুড়ে বাজারগুলো আবার খুললেও অনেক মানুষ বেকার। তাঁদের কেনাকাটার সামর্থ্যও কম।

‘প্রতিদিনই দাম বাড়ছে’

জুন নাগাদ খার্তুমের মাত্র এক শতাংশ এলাকাকে নিরাপদ ঘোষণা করেছিল জাতিসংঘ। শহরের দেয়ালের ভেতর ও রাস্তার মোড়ে পড়ে থাকা বিস্ফোরক ফাঁদ ও অবিস্ফোরিত গোলার কারণে বহু শিশু নিহত ও আহত হয়েছে।

প্রতিবেশী মিসর থেকে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ফিরে এসেছে। মিসরে ১৫ লাখ সুদানি আশ্রয় নিয়েছিল। তবে সেখানে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া, বর্ণবাদী নিপীড়ন, গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের মুখে পড়তে হয়েছে।

খার্তুমের শ্রমজীবী এলাকাগুলোতেই সবচেয়ে বেশি মানুষ ফিরেছে। আর যাদের সামর্থ্য রয়েছে, তাঁদের বেশিরভাগই এখনো বাইরে থাকছেন।

ফলে খার্তুম-২-এর মতো অভিজাত এলাকাগুলো প্রায় পরিত্যক্ত। গাছঘেরা সড়কে হাঁটলে পায়ের নিচে কাচ ভাঙার শব্দ শোনা যায়। খালি বাড়িগুলোর মাঝখানে শুধু পাখির ডাক। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অনেক বাড়ির পুরো অংশই উড়ে গেছে।

৮৬ বছর বয়সী থুরায়া বাবিকার ভেবেছিলেন, এবার তিনি স্থায়ীভাবেই ফিরেছেন। কিন্তু তিন মাস পর তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আমার স্বামী, ছোট মেয়ে এবং আমি সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যেতে চাই না।’ তবে চিকিৎসাসেবার অভাবে সেখানে থাকা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

গত বছর মানুষ ফিরতে শুরু করলে সুদানের বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা হাসপাতাল পুনর্নির্মাণে দ্রুত কাজ শুরু করে।

স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, এর কয়েকটি এখন ‘আগের চেয়েও ভালো হয়েছে’।

তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও চিকিৎসক হাইফা ওমর বলেন, কিছু জিনিস একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘কিছু ওষুধ রোগীদের নিজেদের টাকায় কিনতে বলতে হচ্ছে। কথাটা বলতে গেলেই আমার গলা ধরে আসে। আমরা জানি, মানুষের পরিস্থিতি কতটা কঠিন।’

কলেজের অধ্যাপক ইমাম বাবিকার বাবার রক্তচাপের ওষুধ খুঁজতে তাঁকে ১০টি ফার্মেসিতে যেতে হয়। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই এর দাম আলাদা।’

৩৪ বছর বয়সী ইমাম তাঁর ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মায়ের ইনসুলিন রাখার জন্য একটি ফ্রিজ কিনেছিলেন। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘কিন্তু প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে ইনসুলিন নষ্ট হয়ে যায়।’

সুয়াদ মোহামেদের মতো অন্যদের ফ্রিজও লুট হয়ে গেছে। ৪৯ বছর বয়সী সুয়াদ নতুন ফ্রিজ কেনার সামর্থ্য রাখেন না।

তিনি বলেন, ‘এখন আমাকে প্রতিদিন সবজি ও মাংস কিনতে হয়। আর প্রতিদিনই দাম বাড়ছে।’

‘বাস্তবতা মোটেও ভালো নয়’

একসময় ৮ লাখেরও বেশি মানুষের বাসস্থান আফ্রিকার অন্যতম প্রধান রাজধানী খার্তুম এখন তার আগের রূপের ছায়ামাত্র।

শহরের কেন্দ্রে জাতিসংঘের এক অভিজ্ঞ কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ইউক্রেনসহ তারা যে অন্য সব সংকট দেখেছেন, তার তুলনায় খার্তুমে ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা অনেক বেশি।

মাঝেমধ্যে আরএসএফের ড্রোন হামলা চললেও জুলাইয়ে কর্তৃপক্ষ দূরশিক্ষণ বন্ধ করে দেওয়ার পর খার্তুম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ফিরতে বলা হয়েছে।

খার্তুম বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিজ্ঞানের অধ্যাপকেরা প্রতিবাদ হিসেবে একযোগে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরাও অভিযোগ করছেন, তাঁদের জোর করে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

একজন মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এএফপিকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে অনলাইনে গবেষণাপত্রের মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না। অথচ আমার তত্ত্বাবধায়কও অন্য একটি দেশে আছেন এবং তিনিও ফিরতে চান না।’ পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি এ কথা বলেন।

ব্যবস্থাপনা বিভাগের একজন স্নাতক শিক্ষার্থীর এ বছর তাঁর শেষ বর্ষে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু গ্রীষ্মের সশরীরে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তিনি। এখন নতুন করে কলেজ শুরু করতে মিসরে বৃত্তির জন্য চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের কথা শুনতে চায়নি। তাদের একমাত্র চিন্তা ছিল মানুষ যেন ফিরে আসে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে বিষয়টি রাজনৈতিক। তারা চায় মানুষ ফিরে আসুক, যাতে দেখানো যায় সবকিছু ঠিকঠাক চলছে। অথচ বাস্তবতা মোটেও ভালো নয়।’

Share this news as a Photo Card