বিদ্যুৎ আসছে, আবার চলে যাচ্ছে। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের চিত্র আরও নাজুক। শহরে দুই থেকে চার ঘণ্টা এবং গ্রামাঞ্চলে ছয় থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। লোডশেডিং নিয়ে গ্রামের চায়ের দোকান থেকে শহরের অফিসপাড়া—সবখানেই চলছে আলোচনা।
লোডশেডিংয়ের এমন পরিস্থিতিতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। রাজশাহী জেলার ১৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়েছে তারা।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে পুঠিয়ার ভড়ুয়ারপাড়ার মোড়ে একটি চায়ের দোকানে স্থানীয় কয়েকজন বসে সময় কাটাচ্ছিলেন। তাঁদের আলোচনায় বিদ্যুৎ ও লোডশেডিংয়ের প্রসঙ্গও উঠে আসে। ঠিকমতো বিদ্যুৎ না পাওয়ায় তাঁদের কথায় অসন্তোষের প্রকাশ দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর বলেন, দিনে বিদ্যুৎ না থাকলে কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু রাতে ঘুমানোর সময় বিদ্যুৎ না থাকলে বিষয়টি মেনে নেওয়া কঠিন। সারা দিন কাজ করার পর বাড়িতে এসে শান্তিতে ঘুমানো যায় না। এমন কষ্ট সবার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে নগরজুড়ে দুই থেকে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে কমপক্ষে এক ঘণ্টা পর আসে। আর গ্রামাঞ্চলে ছয় থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। তীব্র গরমে ভোগান্তির মাত্রা আরও বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন শিশু ও বয়স্করা। কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং শিল্পকারখানার মালিক ও শ্রমিকেরাও পড়েছেন বড় সংকটে।
গ্রামের গ্রাহকদের অভিযোগ, শহরের তুলনায় তাঁদের ভোগান্তি অনেক বেশি। রাতেও স্বস্তি মিলছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে তাঁদের। দিন-রাত মিলিয়ে গড়ে দুই থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে।
রাজশাহী নগরে ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম চৌধুরী জানান, বুধবার রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩৮ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ১১০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ বর্তমানে ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে।
তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কখনো চাহিদা অনুযায়ী পুরো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, আবার কখনো লোডশেডিং হচ্ছে। পরিস্থিতি প্রতি ঘণ্টায় পরিবর্তিত হচ্ছে। তবে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় গড়ে ২০ থেকে ৩০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিবাগত রাতে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১১৩ মেগাওয়াট। নগরীতে দিন-রাত মিলিয়ে গড় বিদ্যুতের চাহিদা ১৩৫ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ হচ্ছে ১১১ মেগাওয়াট। অর্থাৎ গড়ে ২৪ মেগাওয়াট ঘাটতি রয়েছে।
গ্রামাঞ্চলে চাহিদার তুলনায় ২৫ শতাংশ লোডশেডিং
রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, জেলার পাঁচ উপজেলায় দিনে-রাতে বিদ্যুতের চাহিদা ১১০ থেকে ১১৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ লোডশেডিং হচ্ছে।
এ অবস্থায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র ব্যবস্থাপক রবেন্দ্র চন্দ্র রায় বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য জেলার ১৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
Md Sadikul islam (shopnil) 























