ব্যস্ত জীবনে প্রতিবার রান্না করার মতো সময় বা শক্তি অনেকেরই থাকে না। তাই আগে রান্না করে রাখা খাবার গরম করে খাওয়াই হয়ে ওঠে সহজ সমাধান। অল্প সময়ে খাবার গরম করার ক্ষেত্রে মাইক্রোওয়েভ ওভেন বেশ সুবিধাজনক। তবে সব ধরনের খাবার মাইক্রোওয়েভে গরম করার উপযোগী নয়। কিছু খাবার এতে গরম করলে স্বাদ ও গঠন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
শাকসবজি ও প্রাকৃতিক খাবার
পালংশাক, বাঁধাকপি বা বিটের মতো পাতাযুক্ত সবজিতে প্রাকৃতিকভাবে নাইট্রেট থাকে। মাইক্রোওয়েভের তাপে এসব নাইট্রেট থেকে নাইট্রোসামাইন তৈরি হতে পারে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
আলু গরম করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সেদ্ধ আলু দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দিলে এতে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। মাইক্রোওয়েভে গরম করলেও সেই ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না। তাই সবজি ও আলু ওভেন বা চুলায় মৃদু আঁচে গরম করা নিরাপদ।
ডিম, মাংস ও সামুদ্রিক খাবার
মাইক্রোওয়েভে সেদ্ধ ডিম গরম করলে ভেতরে বাষ্প জমে হঠাৎ ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। স্ক্র্যাম্বল বা ভাজা ডিমও এতে গরম করলে রাবারের মতো শক্ত হয়ে যেতে পারে।
মুরগির মাংস, স্টেক বা মাছের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার মাইক্রোওয়েভে অতিরিক্ত শুকিয়ে শক্ত ও শুষ্ক হয়ে যায়। মাছ বা সামুদ্রিক খাবার গরম করলেও স্বাদ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ঘরে অপ্রীতিকর গন্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এসব খাবার ফ্রাইং প্যানে সামান্য তেল দিয়ে বা ওভেনে ধীরে গরম করা ভালো।
ভাজাপোড়া ও মচমচে খাবার
ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, পিৎজা, শিঙাড়া, পাকোড়া কিংবা টেম্পুরার মতো ভাজাপোড়া খাবার মাইক্রোওয়েভে গরম করলে নরম, প্যাচপ্যাচে ও তেলতেলে হয়ে যেতে পারে। খাবারের মচমচে ভাব ধরে রাখতে এয়ার ফ্রায়ার বা সাধারণ ওভেন ব্যবহার করা ভালো। ফ্রাইং প্যানে হালকা সেঁকে নিলেও মচমচে ভাব ফিরিয়ে আনা যায়।
প্রক্রিয়াজাত খাবার ও সস
প্রক্রিয়াজাত মাংস, যেমন সসেজ বা পেস্ট্রি, এবং ঘন টমেটো সস মাইক্রোওয়েভে গরম করার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। টমেটো সসের ভেতরে বাষ্প জমে তা ওভেনের দেয়ালে ছিটকে পড়তে পারে। এতে হাত পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
অন্যদিকে প্রক্রিয়াজাত মাংসে থাকা কিছু রাসায়নিক উপাদান মাইক্রোওয়েভের তাপে আরও ক্ষতিকর রূপ নিতে পারে। সস বা কেচাপজাতীয় খাবার আলাদা পাত্রে নিয়ে চুলায় গরম করা ভালো।
তরল ও বেক করা খাবার
মাইক্রোওয়েভে মগে পানি গরম করলে কখনো কখনো তা অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে হঠাৎ ছিটকে পড়তে বা বিস্ফোরিত হতে পারে। অন্যদিকে চা-কফি বা বুকের দুধ গরম করলে স্বাদ ও পুষ্টিগুণ নষ্ট হতে পারে।
পাউরুটি বা বেক করা পেস্ট্রি মাইক্রোওয়েভে গরম করলে শুকিয়ে শক্ত হয়ে যেতে পারে। রুটি বা বেকড খাবারে সামান্য পানি ছিটিয়ে সাধারণ ওভেনে ৩ থেকে ৫ মিনিট গরম করলে তা তুলতুলে ও সতেজ রাখা যায়।
জরুরি টিপস
কোনো খাবার একবারের বেশি বারবার গরম করা উচিত নয়। এতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। খাবারের স্বাদ ও গুণগত মান ধরে রাখতে শুধু মাইক্রোওয়েভের ওপর নির্ভর না করে খাবারের ধরন অনুযায়ী এয়ার ফ্রায়ার, ফ্রাইং প্যান বা চুলা ব্যবহার করা ভালো।
উদ্যোক্তা ডেস্ক 























