Dhaka ০৮:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনাম
বিয়ে নিয়ে কেয়া পায়েলের ভাবনা, জীবনসঙ্গী হিসেবে চান বিশ্বাস ও সম্মান জনকল্যাণমূলক কাজে সরকারকে সহযোগিতা করবে জামায়াত: গোলাম পরওয়ার মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের পাশে নাগরিক উদ্যোগ নিল বিএমইউ বুয়েটের ডিগ্রি, ছেড়েছেন লোভনীয় চাকরি—প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষক নায়লা শারাফ ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গাপূজার ছুটি বাড়ল এক দিন, ২০–২৪ অক্টোবর টানা ছুটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে ২০২৬ সালের নোবেল পেলেন ডেইসেরথ, হেগেম্যান ও নাগেল বিসিআইসির চেয়ারম্যান হলেন অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিঞা শিক্ষকতা ‘উপায়হীন বিকল্প’ নয়, মেধাবীদের প্রথম পছন্দ করতে হবে: তারেক রহমান ধানমন্ডিতে যাত্রা শুরু করল আকিজ ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার

পাঁচ বছরে উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য, মাথাপিছু আয় ৪,৫৯১ ডলার

  • Md Sadikul islam (shopnil)
  • Update Time : ০৯:২২:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ Time View

আগামী পাঁচ বছরে দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতা থেকে উচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে নিতে বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা করেছে সরকার। ২০৩০–৩১ অর্থবছরের মধ্যে মাথাপিছু আয় ৪ হাজার ৫৯১ ডলার, মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৮ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ব্যাংক ও রাজস্ব ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বিনিয়োগ, অবকাঠামো, কর্মসংস্থান ও সুশাসনে পরিবর্তনের একটি রূপরেখা দিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)।

জিইডির ‘ট্রান্সফর্মিং ইকোনমি ফ্রম ফ্রেজাইলিটি টু প্রসপারিটি’ প্রতিবেদনে ২০২৬–২৭ থেকে ২০৩০–৩১ অর্থবছরের জন্য এই পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। গত বুধবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে বিদায়ী অর্থবছরের ২ হাজার ৯৫৮ ডলারের মাথাপিছু আয় পাঁচ বছরের মধ্যে ৪ হাজার ৫৯১ ডলারে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধাপে ধাপে বাড়িয়ে পঞ্চম বছরে সাড়ে ৮ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই পরিবর্তনের শুরু হবে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার মাধ্যমে। প্রথম বছরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং ব্যাংক খাতের ঝুঁকি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এরপর রাজস্ব আদায় বাড়ানো, সরকারি ব্যয়ে দক্ষতা আনা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার মাধ্যমে অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শেষ দুই বছরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়িয়ে প্রবৃদ্ধি দ্রুত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনায় ব্যাংক খাতের সংস্কারকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হিসেবে দেখা হয়েছে। খেলাপি ঋণ ও দুর্বল সুশাসনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা ব্যাংকগুলো চিহ্নিত করে প্রথম বছরেই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরবর্তী সময়ে ঋণ আদায়, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ব্যাংকের সুশাসন শক্তিশালী করা হবে।

রাজস্ব আদায় বাড়াতেও কাঠামোগত পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব আদায় বিভাগ আলাদা করার পাশাপাশি একক ভ্যাট হার চালু, করছাড় কমানো এবং অনানুষ্ঠানিক খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কর পরিশোধ সহজ করতে ডিজিটাল ব্যবস্থার সম্প্রসারণ করা হবে। ২০৩০–৩১ অর্থবছরে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করতে চায় সরকার।

অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়াতে যোগাযোগ অবকাঠামোয়ও বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ–কুমিল্লা–লাকসাম–ফেনী কর্ডলাইন, ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথে বিদ্যুতায়ন এবং ঢাকা–পঞ্চগড় ও ঢাকা–চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলপথ ডাবল লাইনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ঢাকা থেকে মিয়ানমার হয়ে চীনের কুনমিং পর্যন্ত রেল সংযোগকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বড় শহরগুলোতে মেট্রোরেল, এলিভেটেড রেল, কমিউটার রেল ও মনোরেলের পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রবৃদ্ধির সঙ্গে কর্মসংস্থান বাড়াতে তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ৫৬০ জন তরুণকে স্টার্টআপ ফান্ড থেকে অর্থায়ন এবং ১ হাজার ২০০ নারী উদ্যোক্তাকে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে পরিকল্পনার লক্ষ্য ও বাস্তবায়ন সক্ষমতার মধ্যে ফারাক নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, পরিকল্পনায় উন্নয়নের স্পৃহা আছে, কিন্তু কর্মসংস্থান, কর, ব্যাংক ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাস্তবায়নযোগ্য ও সময়সীমাবদ্ধ কর্মকৌশল দরকার। তৈরি পোশাকনির্ভর রপ্তানি, বিনিয়োগ মন্দা ও বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না থাকলে উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।

Share this news as a Photo Card

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বিয়ে নিয়ে কেয়া পায়েলের ভাবনা, জীবনসঙ্গী হিসেবে চান বিশ্বাস ও সম্মান

04 October 2026

ধানমন্ডিতে যাত্রা শুরু করল আকিজ ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার

www.hostbuybd.com

পাঁচ বছরে উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য, মাথাপিছু আয় ৪,৫৯১ ডলার

Update Time : ০৯:২২:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

আগামী পাঁচ বছরে দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতা থেকে উচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে নিতে বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা করেছে সরকার। ২০৩০–৩১ অর্থবছরের মধ্যে মাথাপিছু আয় ৪ হাজার ৫৯১ ডলার, মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৮ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ব্যাংক ও রাজস্ব ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বিনিয়োগ, অবকাঠামো, কর্মসংস্থান ও সুশাসনে পরিবর্তনের একটি রূপরেখা দিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)।

জিইডির ‘ট্রান্সফর্মিং ইকোনমি ফ্রম ফ্রেজাইলিটি টু প্রসপারিটি’ প্রতিবেদনে ২০২৬–২৭ থেকে ২০৩০–৩১ অর্থবছরের জন্য এই পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। গত বুধবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে বিদায়ী অর্থবছরের ২ হাজার ৯৫৮ ডলারের মাথাপিছু আয় পাঁচ বছরের মধ্যে ৪ হাজার ৫৯১ ডলারে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধাপে ধাপে বাড়িয়ে পঞ্চম বছরে সাড়ে ৮ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই পরিবর্তনের শুরু হবে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার মাধ্যমে। প্রথম বছরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং ব্যাংক খাতের ঝুঁকি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এরপর রাজস্ব আদায় বাড়ানো, সরকারি ব্যয়ে দক্ষতা আনা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার মাধ্যমে অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শেষ দুই বছরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়িয়ে প্রবৃদ্ধি দ্রুত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনায় ব্যাংক খাতের সংস্কারকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হিসেবে দেখা হয়েছে। খেলাপি ঋণ ও দুর্বল সুশাসনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা ব্যাংকগুলো চিহ্নিত করে প্রথম বছরেই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরবর্তী সময়ে ঋণ আদায়, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ব্যাংকের সুশাসন শক্তিশালী করা হবে।

রাজস্ব আদায় বাড়াতেও কাঠামোগত পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব আদায় বিভাগ আলাদা করার পাশাপাশি একক ভ্যাট হার চালু, করছাড় কমানো এবং অনানুষ্ঠানিক খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কর পরিশোধ সহজ করতে ডিজিটাল ব্যবস্থার সম্প্রসারণ করা হবে। ২০৩০–৩১ অর্থবছরে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করতে চায় সরকার।

অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়াতে যোগাযোগ অবকাঠামোয়ও বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ–কুমিল্লা–লাকসাম–ফেনী কর্ডলাইন, ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথে বিদ্যুতায়ন এবং ঢাকা–পঞ্চগড় ও ঢাকা–চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলপথ ডাবল লাইনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ঢাকা থেকে মিয়ানমার হয়ে চীনের কুনমিং পর্যন্ত রেল সংযোগকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বড় শহরগুলোতে মেট্রোরেল, এলিভেটেড রেল, কমিউটার রেল ও মনোরেলের পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রবৃদ্ধির সঙ্গে কর্মসংস্থান বাড়াতে তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ৫৬০ জন তরুণকে স্টার্টআপ ফান্ড থেকে অর্থায়ন এবং ১ হাজার ২০০ নারী উদ্যোক্তাকে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে পরিকল্পনার লক্ষ্য ও বাস্তবায়ন সক্ষমতার মধ্যে ফারাক নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, পরিকল্পনায় উন্নয়নের স্পৃহা আছে, কিন্তু কর্মসংস্থান, কর, ব্যাংক ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাস্তবায়নযোগ্য ও সময়সীমাবদ্ধ কর্মকৌশল দরকার। তৈরি পোশাকনির্ভর রপ্তানি, বিনিয়োগ মন্দা ও বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না থাকলে উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।

Share this news as a Photo Card