Dhaka ০৮:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনাম
বিয়ে নিয়ে কেয়া পায়েলের ভাবনা, জীবনসঙ্গী হিসেবে চান বিশ্বাস ও সম্মান জনকল্যাণমূলক কাজে সরকারকে সহযোগিতা করবে জামায়াত: গোলাম পরওয়ার মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের পাশে নাগরিক উদ্যোগ নিল বিএমইউ বুয়েটের ডিগ্রি, ছেড়েছেন লোভনীয় চাকরি—প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষক নায়লা শারাফ ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গাপূজার ছুটি বাড়ল এক দিন, ২০–২৪ অক্টোবর টানা ছুটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে ২০২৬ সালের নোবেল পেলেন ডেইসেরথ, হেগেম্যান ও নাগেল বিসিআইসির চেয়ারম্যান হলেন অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিঞা শিক্ষকতা ‘উপায়হীন বিকল্প’ নয়, মেধাবীদের প্রথম পছন্দ করতে হবে: তারেক রহমান ধানমন্ডিতে যাত্রা শুরু করল আকিজ ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার

হরমুজ সংকটে অক্টোবর পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ বাতিলের শঙ্কা, তালিকায় বাংলাদেশও

  • Md Sadikul islam (shopnil)
  • Update Time : ০৬:৪৬:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩ Time View

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত থাকায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা ‘ফোর্স মেজার’-এর মেয়াদ বাড়িয়েছে কাতারএনার্জি। এর ফলে আগামী অক্টোবর পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ বাতিল হতে পারে বলে ইউরোপীয় ও এশীয় ক্রেতাদের জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কাতারএনার্জির সরবরাহ বাতিলের তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে।

কাতারি সংবাদমাধ্যম দোহা নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ক্রেতা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইতালি রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কোনো অস্বাভাবিক ঘটনার কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায় ও বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

গত শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের জন্য এলএনজি সরবরাহে জারি করা এই নির্দেশনার মেয়াদ সেপ্টেম্বরের পরও বাড়িয়েছে কাতারএনার্জি। অন্যদিকে পাকিস্তানি ক্রেতাদের চলতি সপ্তাহে জানানো হয়েছে, আগামী অক্টোবর পর্যন্ত কার্গো বাতিলের প্রক্রিয়া চলবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের ক্রেতারাও এ–সংক্রান্ত নোটিশ পাওয়া শুরু করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সও ইতালিতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল।

ইতালির জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এডিসন জানিয়েছে, সরবরাহ স্থগিতের মেয়াদ নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ইতালির আদ্রিয়াটিক এলএনজি রিসিভিং টার্মিনালের জন্য নির্ধারিত অতিরিক্ত পাঁচটি এলএনজি কার্গো পাঠাতে পারবে না বলে এডিসনকে জানিয়েছে কাতারএনার্জি।

এর ফলে সামগ্রিক ‘ফোর্স মেজার’-এর সময়সীমা এপ্রিলের শুরু থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত গড়াচ্ছে।

এডিসন বলছে, এখন পর্যন্ত বাতিল হওয়া কার্গোর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯টিতে। নিজেদের জ্বালানি চাহিদা পূরণে বিকল্প উৎসের ব্যবস্থা করছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এই বাধার কারণে এশিয়া ও ইউরোপের ক্রেতারা বিকল্প সরবরাহের উৎস খুঁজতে, অন্য জ্বালানিতে যেতে কিংবা গ্যাসের ব্যবহার কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক হামলা বেড়ে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিয়মিত এলএনজি কার্গো পরিবহন কার্যক্রম প্রায় বন্ধ রয়েছে। কাতার গত মার্চে প্রথমবার এই বিশেষ স্থগিতাদেশ বা ‘ফোর্স মেজার’ জারি করে। অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ায় প্রতি মাসেই এর মেয়াদ নবায়ন করা হচ্ছে।

কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির বৈশ্বিক গবেষণা ফেলো অ্যান-সোফি করবেউ ইউরোনিউজকে বলেন, কোনো রাজনৈতিক সমাধান বা প্রধান অংশীদারদের মধ্যে সমঝোতা ছাড়া পরিস্থিতি আরও কিছুদিন চলতে পারে বলে মনে হচ্ছে।

তিনি বলেন, স্বাভাবিক রপ্তানি কার্যক্রম কবে আবার শুরু করা যাবে, সে বিষয়ে কাতারএনার্জির কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ নেই। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মাসে সরবরাহ বাতিলের সিদ্ধান্তের মেয়াদ বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে গত ফেব্রুয়ারি থেকে জ্বালানি রপ্তানির বৈশ্বিক মানচিত্র থেকে কাতার একপ্রকার অদৃশ্য হয়ে পড়েছে। আইসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম ছয় মাসে দেশটি মাত্র ১৮টি এলএনজি কার্গো রপ্তানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫০৯টি।

ইউরোনিউজ জানিয়েছে, গ্যাস বিক্রি থেকে কাতারের আনুমানিক রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি বা ২৪ বিলিয়ন ডলার।

এই ঘাটতির একটি অংশ পূরণ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো অন্যান্য রপ্তানিকারক দেশ। এ ছাড়া নাইজেরিয়া ও মালয়েশিয়ায় উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে। তবে সামগ্রিক ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এশিয়ার কিছু বাজার ব্যবহার কমিয়ে অথবা বিকল্প জ্বালানিতে গিয়ে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে ইউরোপ স্পট মার্কেট থেকে উচ্চ মূল্যে গ্যাস না কিনে নিজেদের মজুত করা গ্যাস ব্যবহার করছে।

গবেষক অ্যান-সোফি করবেউ বলেন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে দীর্ঘ সময় ধরে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হলে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নামতে পারে।

এই সংকটের প্রভাব সব আমদানিকারক দেশের ওপর সমান নয়। তবে তাঁর মতে, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে জাপান তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। কারণ, দেশটি কাতার থেকে তুলনামূলক কম এলএনজি কেনে এবং তাদের বেশির ভাগ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির দাম তেল বা যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাসের দামের সঙ্গে নির্ধারিত।

ইউরোনিউজকে করবেউ বলেন, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

ইরানে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। এই জলপথ দিয়ে কিছু তেলবাহী ট্যাঙ্কার এখনো চলাচল করছে। তবে এলএনজিবাহী জাহাজ তেমন সহজলভ্য নয়।

এসব জাহাজ অত্যন্ত বিশেষায়িত হওয়ায় বিকল্প পাওয়া কঠিন। চলমান সংঘাতের মধ্যে এ কারণে এসব জাহাজ আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কাতারএনার্জির প্রেসিডেন্ট, প্রধান নির্বাহী ও কাতার সরকারের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সায়াদ শেরিদা আল-কাবি বলেছেন, রাস লাফানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা অন্তত ১৭ শতাংশ কমে গেছে।

সূত্র: দোহা নিউজ, ইউরোনিউজ।

Share this news as a Photo Card

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বিয়ে নিয়ে কেয়া পায়েলের ভাবনা, জীবনসঙ্গী হিসেবে চান বিশ্বাস ও সম্মান

04 October 2026

ধানমন্ডিতে যাত্রা শুরু করল আকিজ ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার

www.hostbuybd.com

হরমুজ সংকটে অক্টোবর পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ বাতিলের শঙ্কা, তালিকায় বাংলাদেশও

Update Time : ০৬:৪৬:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত থাকায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা ‘ফোর্স মেজার’-এর মেয়াদ বাড়িয়েছে কাতারএনার্জি। এর ফলে আগামী অক্টোবর পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ বাতিল হতে পারে বলে ইউরোপীয় ও এশীয় ক্রেতাদের জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কাতারএনার্জির সরবরাহ বাতিলের তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে।

কাতারি সংবাদমাধ্যম দোহা নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ক্রেতা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইতালি রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কোনো অস্বাভাবিক ঘটনার কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায় ও বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

গত শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের জন্য এলএনজি সরবরাহে জারি করা এই নির্দেশনার মেয়াদ সেপ্টেম্বরের পরও বাড়িয়েছে কাতারএনার্জি। অন্যদিকে পাকিস্তানি ক্রেতাদের চলতি সপ্তাহে জানানো হয়েছে, আগামী অক্টোবর পর্যন্ত কার্গো বাতিলের প্রক্রিয়া চলবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের ক্রেতারাও এ–সংক্রান্ত নোটিশ পাওয়া শুরু করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সও ইতালিতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল।

ইতালির জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এডিসন জানিয়েছে, সরবরাহ স্থগিতের মেয়াদ নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ইতালির আদ্রিয়াটিক এলএনজি রিসিভিং টার্মিনালের জন্য নির্ধারিত অতিরিক্ত পাঁচটি এলএনজি কার্গো পাঠাতে পারবে না বলে এডিসনকে জানিয়েছে কাতারএনার্জি।

এর ফলে সামগ্রিক ‘ফোর্স মেজার’-এর সময়সীমা এপ্রিলের শুরু থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত গড়াচ্ছে।

এডিসন বলছে, এখন পর্যন্ত বাতিল হওয়া কার্গোর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯টিতে। নিজেদের জ্বালানি চাহিদা পূরণে বিকল্প উৎসের ব্যবস্থা করছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এই বাধার কারণে এশিয়া ও ইউরোপের ক্রেতারা বিকল্প সরবরাহের উৎস খুঁজতে, অন্য জ্বালানিতে যেতে কিংবা গ্যাসের ব্যবহার কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক হামলা বেড়ে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিয়মিত এলএনজি কার্গো পরিবহন কার্যক্রম প্রায় বন্ধ রয়েছে। কাতার গত মার্চে প্রথমবার এই বিশেষ স্থগিতাদেশ বা ‘ফোর্স মেজার’ জারি করে। অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ায় প্রতি মাসেই এর মেয়াদ নবায়ন করা হচ্ছে।

কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির বৈশ্বিক গবেষণা ফেলো অ্যান-সোফি করবেউ ইউরোনিউজকে বলেন, কোনো রাজনৈতিক সমাধান বা প্রধান অংশীদারদের মধ্যে সমঝোতা ছাড়া পরিস্থিতি আরও কিছুদিন চলতে পারে বলে মনে হচ্ছে।

তিনি বলেন, স্বাভাবিক রপ্তানি কার্যক্রম কবে আবার শুরু করা যাবে, সে বিষয়ে কাতারএনার্জির কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ নেই। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মাসে সরবরাহ বাতিলের সিদ্ধান্তের মেয়াদ বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে গত ফেব্রুয়ারি থেকে জ্বালানি রপ্তানির বৈশ্বিক মানচিত্র থেকে কাতার একপ্রকার অদৃশ্য হয়ে পড়েছে। আইসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম ছয় মাসে দেশটি মাত্র ১৮টি এলএনজি কার্গো রপ্তানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫০৯টি।

ইউরোনিউজ জানিয়েছে, গ্যাস বিক্রি থেকে কাতারের আনুমানিক রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি বা ২৪ বিলিয়ন ডলার।

এই ঘাটতির একটি অংশ পূরণ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো অন্যান্য রপ্তানিকারক দেশ। এ ছাড়া নাইজেরিয়া ও মালয়েশিয়ায় উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে। তবে সামগ্রিক ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এশিয়ার কিছু বাজার ব্যবহার কমিয়ে অথবা বিকল্প জ্বালানিতে গিয়ে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে ইউরোপ স্পট মার্কেট থেকে উচ্চ মূল্যে গ্যাস না কিনে নিজেদের মজুত করা গ্যাস ব্যবহার করছে।

গবেষক অ্যান-সোফি করবেউ বলেন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে দীর্ঘ সময় ধরে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হলে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নামতে পারে।

এই সংকটের প্রভাব সব আমদানিকারক দেশের ওপর সমান নয়। তবে তাঁর মতে, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে জাপান তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। কারণ, দেশটি কাতার থেকে তুলনামূলক কম এলএনজি কেনে এবং তাদের বেশির ভাগ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির দাম তেল বা যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাসের দামের সঙ্গে নির্ধারিত।

ইউরোনিউজকে করবেউ বলেন, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

ইরানে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। এই জলপথ দিয়ে কিছু তেলবাহী ট্যাঙ্কার এখনো চলাচল করছে। তবে এলএনজিবাহী জাহাজ তেমন সহজলভ্য নয়।

এসব জাহাজ অত্যন্ত বিশেষায়িত হওয়ায় বিকল্প পাওয়া কঠিন। চলমান সংঘাতের মধ্যে এ কারণে এসব জাহাজ আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কাতারএনার্জির প্রেসিডেন্ট, প্রধান নির্বাহী ও কাতার সরকারের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সায়াদ শেরিদা আল-কাবি বলেছেন, রাস লাফানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা অন্তত ১৭ শতাংশ কমে গেছে।

সূত্র: দোহা নিউজ, ইউরোনিউজ।

Share this news as a Photo Card