Dhaka ০৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনাম
বাসের বিশৃঙ্খলা ও যানজট কমাতে ঢাকায় নতুন উদ্যোগ, ৩২ রুটে চলবে গণপরিবহন বছর নষ্ট না করে শিক্ষার মূল ধারায় ফেরানো হবে ফেল করা শিক্ষার্থীদের: শিক্ষামন্ত্রী দেশের ছয় বিভাগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস বাণিজ্য অর্থায়নসেবা দিতে জার্মানির ট্রেডউইন্ডের সঙ্গে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের চুক্তি আনিসুল হক-সালমান এফ রহমানসহ পাঁচ আসামির বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদন নাকচ জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রাজিলের ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা, প্রথমবার ডাক পেলেন পাঁচ ফুটবলার এইচএসসির ফল জানতে এসএমএস পাঠাতে হবে নতুন নম্বরে, জেনে নিন পদ্ধতি ছাড়পত্র ও দাপ্তরিক জটিলতায় ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে যাচ্ছে না পর্যটকবাহী জাহাজ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল জয়ী

বছর নষ্ট না করে শিক্ষার মূল ধারায় ফেরানো হবে ফেল করা শিক্ষার্থীদের: শিক্ষামন্ত্রী

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শনিবার সকালে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা যাতে একটি বছর হারিয়ে না ফেলে এবং দ্রুত শিক্ষার মূল ধারায় ফিরতে পারে, সে জন্য সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে তাদের সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, সম্পূরক পরীক্ষায়ও যারা উত্তীর্ণ হতে পারবে না কিংবা যারা পরীক্ষায় অংশ নেবে না, তাদের বাদ দেওয়া হবে না। বরং কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার আওতায় এনে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে তাদের জন্য বিশেষ প্রকল্প ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও আগের ফলাফল প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নে ত্রুটি বা অস্বচ্ছতা এড়াতে এবার প্রতিটি পরীক্ষককে তুলনামূলক কমসংখ্যক খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অতীতে খাতা পুনর্মূল্যায়নের পর হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্বলতা ও অনিয়মের কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ফলাফল কমে যাওয়া ও শিক্ষার ঘাটতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বছর পাসের হার ও জিপিএ-৫ কিছুটা কমেছে। এর পেছনে কোনো একটি বিষয়ের ঘাটতি দায়ী নয়। বরং সামগ্রিক শিখনপদ্ধতি, পাঠ্যবই ও শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের ঘাটতি রয়েছে। সেগুলো পুনর্মূল্যায়ন করে দূর করতে হবে।

অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবসহ বিভিন্ন উপায়ে উত্তরপত্র মূল্যায়নে কারচুপির প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খাতা মূল্যায়নে শিক্ষকদের দুর্বলতা ও অনিয়মের কারণে অতীতে বড় ধরনের ফল পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছিল। এমনকি একসময় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাও ঘটেছে। বর্তমান সরকার কঠোর হাতে এসব দমন করেছে।

ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে তুলনামূলক খারাপ ফলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ দুই বিষয়ে ফলের অবনতি ঠেকাতে ইতিমধ্যে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

যেসব কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম বা পাসের হার শূন্য, সেগুলো নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভালো ফল করা পাশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ প্রক্রিয়ায় কোনো শিক্ষকের চাকরি যাতে না যায়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধু বড় শহর নয়, গ্রামের শিক্ষকদেরও নিয়মিত ক্লাস নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য পরীক্ষার কেন্দ্রের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষেও সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও নিয়মিত নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কেউ যাতে দায়িত্বে অবহেলা করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন রিমন, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Share this news as a Photo Card

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বাসের বিশৃঙ্খলা ও যানজট কমাতে ঢাকায় নতুন উদ্যোগ, ৩২ রুটে চলবে গণপরিবহন

30 October 2026

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল জয়ী

www.hostbuybd.com

বছর নষ্ট না করে শিক্ষার মূল ধারায় ফেরানো হবে ফেল করা শিক্ষার্থীদের: শিক্ষামন্ত্রী

Update Time : ০৬:৪৫:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শনিবার সকালে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা যাতে একটি বছর হারিয়ে না ফেলে এবং দ্রুত শিক্ষার মূল ধারায় ফিরতে পারে, সে জন্য সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে তাদের সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, সম্পূরক পরীক্ষায়ও যারা উত্তীর্ণ হতে পারবে না কিংবা যারা পরীক্ষায় অংশ নেবে না, তাদের বাদ দেওয়া হবে না। বরং কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার আওতায় এনে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে তাদের জন্য বিশেষ প্রকল্প ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও আগের ফলাফল প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নে ত্রুটি বা অস্বচ্ছতা এড়াতে এবার প্রতিটি পরীক্ষককে তুলনামূলক কমসংখ্যক খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অতীতে খাতা পুনর্মূল্যায়নের পর হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্বলতা ও অনিয়মের কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ফলাফল কমে যাওয়া ও শিক্ষার ঘাটতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বছর পাসের হার ও জিপিএ-৫ কিছুটা কমেছে। এর পেছনে কোনো একটি বিষয়ের ঘাটতি দায়ী নয়। বরং সামগ্রিক শিখনপদ্ধতি, পাঠ্যবই ও শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের ঘাটতি রয়েছে। সেগুলো পুনর্মূল্যায়ন করে দূর করতে হবে।

অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবসহ বিভিন্ন উপায়ে উত্তরপত্র মূল্যায়নে কারচুপির প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খাতা মূল্যায়নে শিক্ষকদের দুর্বলতা ও অনিয়মের কারণে অতীতে বড় ধরনের ফল পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছিল। এমনকি একসময় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাও ঘটেছে। বর্তমান সরকার কঠোর হাতে এসব দমন করেছে।

ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে তুলনামূলক খারাপ ফলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ দুই বিষয়ে ফলের অবনতি ঠেকাতে ইতিমধ্যে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

যেসব কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম বা পাসের হার শূন্য, সেগুলো নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভালো ফল করা পাশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ প্রক্রিয়ায় কোনো শিক্ষকের চাকরি যাতে না যায়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধু বড় শহর নয়, গ্রামের শিক্ষকদেরও নিয়মিত ক্লাস নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য পরীক্ষার কেন্দ্রের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষেও সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও নিয়মিত নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কেউ যাতে দায়িত্বে অবহেলা করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন রিমন, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Share this news as a Photo Card