Dhaka ০৮:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনাম
বিয়ে নিয়ে কেয়া পায়েলের ভাবনা, জীবনসঙ্গী হিসেবে চান বিশ্বাস ও সম্মান জনকল্যাণমূলক কাজে সরকারকে সহযোগিতা করবে জামায়াত: গোলাম পরওয়ার মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের পাশে নাগরিক উদ্যোগ নিল বিএমইউ বুয়েটের ডিগ্রি, ছেড়েছেন লোভনীয় চাকরি—প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষক নায়লা শারাফ ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গাপূজার ছুটি বাড়ল এক দিন, ২০–২৪ অক্টোবর টানা ছুটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে ২০২৬ সালের নোবেল পেলেন ডেইসেরথ, হেগেম্যান ও নাগেল বিসিআইসির চেয়ারম্যান হলেন অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিঞা শিক্ষকতা ‘উপায়হীন বিকল্প’ নয়, মেধাবীদের প্রথম পছন্দ করতে হবে: তারেক রহমান ধানমন্ডিতে যাত্রা শুরু করল আকিজ ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার

নেপালে বন্যায় মৃত্যু ৪৬৯, নিখোঁজ প্রায় হাজার; নতুন বিপর্যয়ের শঙ্কা

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে পৌঁছেছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় এক হাজার মানুষ। কাদা ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে জোর তল্লাশি চলছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের আশা ততই ক্ষীণ হয়ে আসছে। এর মধ্যেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে কাঠমান্ডু পোস্ট ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নেপাল ও প্রতিবেশী তিব্বতে এখনো প্রায় এক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে হিমবাহ ধসের পর বিপুল পরিমাণ পাথর, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত হিমালয়ের নদী অববাহিকাগুলোতে নেমে আসে। এরপরই এ ভয়াবহ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়।

বন্যার প্রবল স্রোতে গ্রাম ও উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সড়ক ও সেতু। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে তিব্বতের লাসা পর্যন্ত সংযোগকারী পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের কাছে জনপ্রিয় গুরুত্বপূর্ণ একটি পথও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নতুন বন্যার আশঙ্কা

বন্যার বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষ এখন নতুন করে আরেকটি বড় বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় ধ্বংসাবশেষে ভোটেকোশি নদীর গতিপথ আটকে একটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। হ্রদটির পানির উচ্চতা ক্রমেই বাড়ছে। যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে পানি বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, চীন জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি একটি বাঁধ দিয়ে আটকে রাখা হ্রদে প্রবেশ করতে পারে। পানির এই পরিমাণ প্রায় এক হাজার ২০০টি অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুলের সমান।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হ্রদটির পানি উপচে পড়া অথবা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি প্রবল। দেশটির পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আগামী ১ সেপ্টেম্বরের দিকে পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

মন্ত্রণালয়ের জলবিদ্যা বিভাগের গবেষক ঝু জিনফেং রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিকে বলেন, পানির পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে এবং একই সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার বন্যাকবলিত নুয়াকোট পরিদর্শন করেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। রাষ্ট্রের সব সংস্থা পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে। এখন সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার প্রতিটি নাগরিকের জীবন রক্ষা, নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধার, আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া।

পাঁচ মাস আগে দায়িত্ব নেওয়া নেপালের নতুন সরকারের জন্য এই দুর্যোগ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের বিপর্যয় মোকাবিলায় নেপালের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও অভিজ্ঞ জনবল রয়েছে। ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগ মোকাবিলার অভিজ্ঞতাও দেশটির আছে। ওই ভূমিকম্পে প্রায় ৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন।

Share this news as a Photo Card

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বিয়ে নিয়ে কেয়া পায়েলের ভাবনা, জীবনসঙ্গী হিসেবে চান বিশ্বাস ও সম্মান

04 October 2026

ধানমন্ডিতে যাত্রা শুরু করল আকিজ ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার

www.hostbuybd.com

নেপালে বন্যায় মৃত্যু ৪৬৯, নিখোঁজ প্রায় হাজার; নতুন বিপর্যয়ের শঙ্কা

Update Time : ১০:৪৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে পৌঁছেছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় এক হাজার মানুষ। কাদা ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে জোর তল্লাশি চলছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের আশা ততই ক্ষীণ হয়ে আসছে। এর মধ্যেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে কাঠমান্ডু পোস্ট ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নেপাল ও প্রতিবেশী তিব্বতে এখনো প্রায় এক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে হিমবাহ ধসের পর বিপুল পরিমাণ পাথর, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত হিমালয়ের নদী অববাহিকাগুলোতে নেমে আসে। এরপরই এ ভয়াবহ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়।

বন্যার প্রবল স্রোতে গ্রাম ও উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সড়ক ও সেতু। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে তিব্বতের লাসা পর্যন্ত সংযোগকারী পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের কাছে জনপ্রিয় গুরুত্বপূর্ণ একটি পথও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নতুন বন্যার আশঙ্কা

বন্যার বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষ এখন নতুন করে আরেকটি বড় বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় ধ্বংসাবশেষে ভোটেকোশি নদীর গতিপথ আটকে একটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। হ্রদটির পানির উচ্চতা ক্রমেই বাড়ছে। যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে পানি বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, চীন জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি একটি বাঁধ দিয়ে আটকে রাখা হ্রদে প্রবেশ করতে পারে। পানির এই পরিমাণ প্রায় এক হাজার ২০০টি অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুলের সমান।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হ্রদটির পানি উপচে পড়া অথবা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি প্রবল। দেশটির পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আগামী ১ সেপ্টেম্বরের দিকে পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

মন্ত্রণালয়ের জলবিদ্যা বিভাগের গবেষক ঝু জিনফেং রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিকে বলেন, পানির পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে এবং একই সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার বন্যাকবলিত নুয়াকোট পরিদর্শন করেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। রাষ্ট্রের সব সংস্থা পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে। এখন সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার প্রতিটি নাগরিকের জীবন রক্ষা, নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধার, আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া।

পাঁচ মাস আগে দায়িত্ব নেওয়া নেপালের নতুন সরকারের জন্য এই দুর্যোগ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের বিপর্যয় মোকাবিলায় নেপালের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও অভিজ্ঞ জনবল রয়েছে। ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগ মোকাবিলার অভিজ্ঞতাও দেশটির আছে। ওই ভূমিকম্পে প্রায় ৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন।

Share this news as a Photo Card