Dhaka ০৮:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনাম
বিয়ে নিয়ে কেয়া পায়েলের ভাবনা, জীবনসঙ্গী হিসেবে চান বিশ্বাস ও সম্মান জনকল্যাণমূলক কাজে সরকারকে সহযোগিতা করবে জামায়াত: গোলাম পরওয়ার মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের পাশে নাগরিক উদ্যোগ নিল বিএমইউ বুয়েটের ডিগ্রি, ছেড়েছেন লোভনীয় চাকরি—প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষক নায়লা শারাফ ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গাপূজার ছুটি বাড়ল এক দিন, ২০–২৪ অক্টোবর টানা ছুটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে ২০২৬ সালের নোবেল পেলেন ডেইসেরথ, হেগেম্যান ও নাগেল বিসিআইসির চেয়ারম্যান হলেন অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিঞা শিক্ষকতা ‘উপায়হীন বিকল্প’ নয়, মেধাবীদের প্রথম পছন্দ করতে হবে: তারেক রহমান ধানমন্ডিতে যাত্রা শুরু করল আকিজ ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার

নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃত ৯০৩, নিখোঁজ ৪ হাজারের বেশি

  • Md Sadikul islam (shopnil)
  • Update Time : ০৭:১৩:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪ Time View

নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে। সোমবার সকালে নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৯০৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২৪৭ জন, যাঁদের মধ্যে ৩২০ জন বিদেশি নাগরিক।

সোমবার উদ্ধার অভিযান পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো বহু মরদেহ কাদামাটির পুরু স্তরের নিচে চাপা পড়ে আছে। সেগুলো উদ্ধারে আরও সময় লাগবে।

এই আকস্মিক বন্যায় নেপালের আটটি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চিতোয়ান থেকে ২৭২টি, নওয়ালপারসি পূর্ব থেকে ২০৭টি, নওয়ালপারসি পশ্চিম থেকে ১৫১টি এবং গোর্খা জেলা থেকে ৬২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়া নুয়াকোটে ৯৫টি, ধাদিঙে ৫৫টি, তানাহুতে ৩৭টি এবং রাসুয়ায় ২৪টি মরদেহ পাওয়া গেছে।

বুধবার সকালে রাসুয়ার ভোটেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। কাদা ও পানির প্রবল স্রোত লোকালয় নিশ্চিহ্ন করতে করতে এগিয়ে যায়। স্রোতের তোড়ে অনেক মরদেহ মূল ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ভেসে গেছে। এতে উদ্ধার অভিযান আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

মরদেহ উদ্ধার করা হলেও শনাক্তকরণের কাজ এগোচ্ছে না। অধিকাংশ মরদেহ এমন অবস্থায় রয়েছে যে দেখে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে।

অন্যদিকে মরদেহ দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে কর্তৃপক্ষের জন্য। নেপালের মর্গগুলোতে আর জায়গা নেই। তাই সাময়িকভাবে কিছু ভবন চিহ্নিত করে সেখানে মরদেহ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তবে দীর্ঘ সময় মরদেহ সংরক্ষণের মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সেখানে নেই। এ পরিস্থিতিতে মরদেহগুলোর প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে গণকবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার।

নেপালের সীমান্তের ওপারে তিব্বতের দিকেও বুধবার আকস্মিক বন্যার তাণ্ডব দেখা দেয়। চীন জানিয়েছে, তিব্বতে এ বিপর্যয়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৫৪৭ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৪৯ জন ভারতীয় রয়েছেন বলে রোববার জানিয়েছিল বেইজিং। ওই ৪৯ জনই তামিলনাড়ুর বাসিন্দা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোমবার তামিলনাড়ুর একটি ভ্রমণ সংস্থা জানিয়েছে, তাদের ৪৯ সদস্যের একটি পর্যটক দল কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনে গিয়েছিল। বুধবারের ঘটনার পর থেকে ওই দলের কারও সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে কলকাতার একটি পর্যটক দলও নেপালে নিখোঁজ রয়েছে। দলটিতে ৩২ জন ছিলেন। তাঁদের নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মোট ৩৭ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

নিখোঁজ ভারতীয়দের সবাই অবশ্য পর্যটক নন। তাঁদের কেউ কেউ নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে গিয়েছিলেন। এ ছাড়া আকস্মিক বন্যার পর থেকে নেপালের অনেক সেনাসদস্য ও পুলিশ কর্মকর্তারও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

নেপালের হাসপাতালগুলোতে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে মানুষের ভিড় বাড়ছে। দূরদূরান্ত থেকে প্রিয়জনের খোঁজে মানুষ সেখানে জড়ো হচ্ছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কাঠমান্ডু।

Share this news as a Photo Card

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বিয়ে নিয়ে কেয়া পায়েলের ভাবনা, জীবনসঙ্গী হিসেবে চান বিশ্বাস ও সম্মান

04 October 2026

ধানমন্ডিতে যাত্রা শুরু করল আকিজ ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার

www.hostbuybd.com

নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃত ৯০৩, নিখোঁজ ৪ হাজারের বেশি

Update Time : ০৭:১৩:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে। সোমবার সকালে নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৯০৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২৪৭ জন, যাঁদের মধ্যে ৩২০ জন বিদেশি নাগরিক।

সোমবার উদ্ধার অভিযান পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো বহু মরদেহ কাদামাটির পুরু স্তরের নিচে চাপা পড়ে আছে। সেগুলো উদ্ধারে আরও সময় লাগবে।

এই আকস্মিক বন্যায় নেপালের আটটি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চিতোয়ান থেকে ২৭২টি, নওয়ালপারসি পূর্ব থেকে ২০৭টি, নওয়ালপারসি পশ্চিম থেকে ১৫১টি এবং গোর্খা জেলা থেকে ৬২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়া নুয়াকোটে ৯৫টি, ধাদিঙে ৫৫টি, তানাহুতে ৩৭টি এবং রাসুয়ায় ২৪টি মরদেহ পাওয়া গেছে।

বুধবার সকালে রাসুয়ার ভোটেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। কাদা ও পানির প্রবল স্রোত লোকালয় নিশ্চিহ্ন করতে করতে এগিয়ে যায়। স্রোতের তোড়ে অনেক মরদেহ মূল ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ভেসে গেছে। এতে উদ্ধার অভিযান আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

মরদেহ উদ্ধার করা হলেও শনাক্তকরণের কাজ এগোচ্ছে না। অধিকাংশ মরদেহ এমন অবস্থায় রয়েছে যে দেখে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে।

অন্যদিকে মরদেহ দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে কর্তৃপক্ষের জন্য। নেপালের মর্গগুলোতে আর জায়গা নেই। তাই সাময়িকভাবে কিছু ভবন চিহ্নিত করে সেখানে মরদেহ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তবে দীর্ঘ সময় মরদেহ সংরক্ষণের মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সেখানে নেই। এ পরিস্থিতিতে মরদেহগুলোর প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে গণকবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার।

নেপালের সীমান্তের ওপারে তিব্বতের দিকেও বুধবার আকস্মিক বন্যার তাণ্ডব দেখা দেয়। চীন জানিয়েছে, তিব্বতে এ বিপর্যয়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৫৪৭ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৪৯ জন ভারতীয় রয়েছেন বলে রোববার জানিয়েছিল বেইজিং। ওই ৪৯ জনই তামিলনাড়ুর বাসিন্দা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোমবার তামিলনাড়ুর একটি ভ্রমণ সংস্থা জানিয়েছে, তাদের ৪৯ সদস্যের একটি পর্যটক দল কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনে গিয়েছিল। বুধবারের ঘটনার পর থেকে ওই দলের কারও সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে কলকাতার একটি পর্যটক দলও নেপালে নিখোঁজ রয়েছে। দলটিতে ৩২ জন ছিলেন। তাঁদের নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মোট ৩৭ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

নিখোঁজ ভারতীয়দের সবাই অবশ্য পর্যটক নন। তাঁদের কেউ কেউ নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে গিয়েছিলেন। এ ছাড়া আকস্মিক বন্যার পর থেকে নেপালের অনেক সেনাসদস্য ও পুলিশ কর্মকর্তারও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

নেপালের হাসপাতালগুলোতে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে মানুষের ভিড় বাড়ছে। দূরদূরান্ত থেকে প্রিয়জনের খোঁজে মানুষ সেখানে জড়ো হচ্ছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কাঠমান্ডু।

Share this news as a Photo Card