Dhaka ১০:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনাম
‘পুরো পৃথিবী বিপক্ষে দাঁড়ালেও একসঙ্গে থাকব’, রাশমিকাকে নিয়ে বিজয় ‘২৭ ইয়ার্স অ্যাঙ্কর্ড ইন ট্রাস্ট’ প্রতিপাদ্যে এমটিবির ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন পঞ্চগড়ের দুই টাকার লাউ ঢাকায় ৬০ টাকা, কৃষকের ন্যায্যমূল্য কোথায়: আখতার হোসেন ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে ইয়ামাল, কেইন ও এমবাপে; এআইয়ের পূর্বাভাসে এগিয়ে কে? বিশ্বজুড়ে ডিজেলের সংকট, চাহিদা কমানোই দ্রুত সমাধান দেখছেন বিশেষজ্ঞরা সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজন হলে ক্রসফায়ারও করব’: আইজিপি দুই রেটিং পয়েন্ট হারাল বাংলাদেশ, ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে নবমেই টাইগাররা সাদিয়া আয়মানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল, বিচ্ছেদের কারণ জানালেন খায়রুল বাসার ওয়ালটনের ‘হাউসফুল অফার’, ফ্রিজ কিনে মিলতে পারে বিদেশ ভ্রমণসহ নানা উপহার ঢাকা-দাম্মাম ও ঢাকা-রিয়াদ রুটে বিমানের ফ্লাইট স্থগিত ৪ নভেম্বর পর্যন্ত

বিশ্বজুড়ে ডিজেলের সংকট, চাহিদা কমানোই দ্রুত সমাধান দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

বিশ্বজুড়ে তীব্র ডিজেলসংকট দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনকে ঘিরে চলমান দুটি বড় যুদ্ধের প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা। অপরিশোধিত তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও তা পরিশোধন করে ডিজেল উৎপাদন ও সরবরাহের সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় সংকট আরও গভীর হচ্ছে। নতুন শোধনাগার নির্মাণে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত সংকট মোকাবিলায় জ্বালানির চাহিদা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

বছরের শুরুতেই ডিজেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ইউরোপে ২০০৯ সালের পর থেকে প্রায় ১০০টি চালু শোধনাগারের মধ্যে ৩০ থেকে ৩২টি বন্ধ হয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়ায় চলতি শতকে আটটি শোধনাগারের মধ্যে ছয়টিই বন্ধ হয়েছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে উচ্চ জ্বালানি ব্যয়, অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য, নাইজেরিয়া, চীন ও ভারতের আধুনিক শোধনাগারগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়াকে দায়ী করা হচ্ছে।

এই দুর্বলতার সুযোগ আরও বাড়িয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ। সৌদি আরব, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতের কয়েকটি আধুনিক শোধনাগারে হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে ডিজেল ও উড়োজাহাজের জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। সৌদি আরবের জাজান শোধনাগার বন্ধ রয়েছে। বাহরাইনের বাপকো শোধনাগার চালু থাকলেও উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৭৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শোধনাগারগুলো কয়েক মাস ধরে সর্বোচ্চ সক্ষমতায় উৎপাদন করছে। তবে দীর্ঘদিন এভাবে উৎপাদন চালালে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি যান্ত্রিক ত্রুটির ঝুঁকিও বাড়বে। ভারত চলতি মাসে প্রতিদিন প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল ডিজেল রপ্তানি করেছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ। তবে দেশটির পক্ষে রপ্তানি আরও বাড়ানো কঠিন হতে পারে।

ডিজেলসংকটের প্রভাব পড়েছে জ্বালানির দামেও। যুক্তরাষ্ট্রে বছরের শুরুতে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৩ ডলার ৪৮ সেন্ট থাকলেও সংকটের কারণে তা বেড়ে ৬ ডলার ১৮ সেন্ট হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম জানুয়ারিতে ২ দশমিক ৫৫ দিরহাম থেকে বেড়ে চলতি মাসে ৪ দশমিক ৮০ দিরহামে দাঁড়িয়েছে।

রাশিয়ার ডিজেলেও মিলছে না সমাধান

ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগে রাশিয়া প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি করত। এখন সেই রপ্তানি প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে এসেছে। বিকল্প হিসেবে দেশটি বেলারুশের সহায়তা নিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল ডিজেল আমদানির জন্য নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দিয়েছে। তবে এই পরিমাণ ডিজেল বৈশ্বিক ঘাটতির মাত্র প্রায় ৭ শতাংশ পূরণ করতে পারবে। ফলে রাশিয়ার সরবরাহ দিয়ে সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

চীনের কাছ থেকেও বাড়তি জ্বালানি সরবরাহ পাওয়ার আশা পূরণ হয়নি। বরং দেশটি জ্বালানি রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শোধনাগার ও পাইপলাইন প্রকল্পে সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলো দ্রুত এই সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখতে পারবে না।

সমাধান হতে পারে জ্বালানির ব্যবহার কমানো

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজেলের চাহিদা কমাতে পরিবহন খাতে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। বৈদ্যুতিক ট্রেন, বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের প্রসার ঘটানো গেলে ডিজেলের ওপর চাপ কমবে। পাশাপাশি ভবনের তাপ নিরোধকব্যবস্থা, সৌরবিদ্যুৎ ও সৌর তাপপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের চাহিদা কমানো সম্ভব।

খনি, নির্মাণকাজ, টেলিযোগাযোগ টাওয়ার এবং বিদ্যুৎ-সংযোগবিহীন পর্যটন এলাকায় ব্যবহৃত ডিজেলচালিত জেনারেটরের পরিবর্তে সৌর প্যানেল ও ব্যাটারি ব্যবহার করা যেতে পারে।

এসব উদ্যোগ তাৎক্ষণিক সমাধান না দিলেও নতুন শোধনাগার বা পাইপলাইন নির্মাণের তুলনায় দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাই নতুন জ্বালানির উৎস খোঁজার পাশাপাশি যেখানে সম্ভব, সেখানে ডিজেলের ব্যবহার কমানোর কৌশল নিতে হবে বিশ্বকে।

Share this news as a Photo Card

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

‘পুরো পৃথিবী বিপক্ষে দাঁড়ালেও একসঙ্গে থাকব’, রাশমিকাকে নিয়ে বিজয়

25 October 2026

ঢাকা-দাম্মাম ও ঢাকা-রিয়াদ রুটে বিমানের ফ্লাইট স্থগিত ৪ নভেম্বর পর্যন্ত

www.hostbuybd.com

বিশ্বজুড়ে ডিজেলের সংকট, চাহিদা কমানোই দ্রুত সমাধান দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

Update Time : ০৭:১৯:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বজুড়ে তীব্র ডিজেলসংকট দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনকে ঘিরে চলমান দুটি বড় যুদ্ধের প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা। অপরিশোধিত তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও তা পরিশোধন করে ডিজেল উৎপাদন ও সরবরাহের সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় সংকট আরও গভীর হচ্ছে। নতুন শোধনাগার নির্মাণে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত সংকট মোকাবিলায় জ্বালানির চাহিদা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

বছরের শুরুতেই ডিজেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ইউরোপে ২০০৯ সালের পর থেকে প্রায় ১০০টি চালু শোধনাগারের মধ্যে ৩০ থেকে ৩২টি বন্ধ হয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়ায় চলতি শতকে আটটি শোধনাগারের মধ্যে ছয়টিই বন্ধ হয়েছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে উচ্চ জ্বালানি ব্যয়, অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য, নাইজেরিয়া, চীন ও ভারতের আধুনিক শোধনাগারগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়াকে দায়ী করা হচ্ছে।

এই দুর্বলতার সুযোগ আরও বাড়িয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ। সৌদি আরব, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতের কয়েকটি আধুনিক শোধনাগারে হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে ডিজেল ও উড়োজাহাজের জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। সৌদি আরবের জাজান শোধনাগার বন্ধ রয়েছে। বাহরাইনের বাপকো শোধনাগার চালু থাকলেও উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৭৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শোধনাগারগুলো কয়েক মাস ধরে সর্বোচ্চ সক্ষমতায় উৎপাদন করছে। তবে দীর্ঘদিন এভাবে উৎপাদন চালালে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি যান্ত্রিক ত্রুটির ঝুঁকিও বাড়বে। ভারত চলতি মাসে প্রতিদিন প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল ডিজেল রপ্তানি করেছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ। তবে দেশটির পক্ষে রপ্তানি আরও বাড়ানো কঠিন হতে পারে।

ডিজেলসংকটের প্রভাব পড়েছে জ্বালানির দামেও। যুক্তরাষ্ট্রে বছরের শুরুতে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৩ ডলার ৪৮ সেন্ট থাকলেও সংকটের কারণে তা বেড়ে ৬ ডলার ১৮ সেন্ট হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম জানুয়ারিতে ২ দশমিক ৫৫ দিরহাম থেকে বেড়ে চলতি মাসে ৪ দশমিক ৮০ দিরহামে দাঁড়িয়েছে।

রাশিয়ার ডিজেলেও মিলছে না সমাধান

ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগে রাশিয়া প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি করত। এখন সেই রপ্তানি প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে এসেছে। বিকল্প হিসেবে দেশটি বেলারুশের সহায়তা নিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল ডিজেল আমদানির জন্য নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দিয়েছে। তবে এই পরিমাণ ডিজেল বৈশ্বিক ঘাটতির মাত্র প্রায় ৭ শতাংশ পূরণ করতে পারবে। ফলে রাশিয়ার সরবরাহ দিয়ে সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

চীনের কাছ থেকেও বাড়তি জ্বালানি সরবরাহ পাওয়ার আশা পূরণ হয়নি। বরং দেশটি জ্বালানি রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শোধনাগার ও পাইপলাইন প্রকল্পে সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলো দ্রুত এই সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখতে পারবে না।

সমাধান হতে পারে জ্বালানির ব্যবহার কমানো

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজেলের চাহিদা কমাতে পরিবহন খাতে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। বৈদ্যুতিক ট্রেন, বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের প্রসার ঘটানো গেলে ডিজেলের ওপর চাপ কমবে। পাশাপাশি ভবনের তাপ নিরোধকব্যবস্থা, সৌরবিদ্যুৎ ও সৌর তাপপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের চাহিদা কমানো সম্ভব।

খনি, নির্মাণকাজ, টেলিযোগাযোগ টাওয়ার এবং বিদ্যুৎ-সংযোগবিহীন পর্যটন এলাকায় ব্যবহৃত ডিজেলচালিত জেনারেটরের পরিবর্তে সৌর প্যানেল ও ব্যাটারি ব্যবহার করা যেতে পারে।

এসব উদ্যোগ তাৎক্ষণিক সমাধান না দিলেও নতুন শোধনাগার বা পাইপলাইন নির্মাণের তুলনায় দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাই নতুন জ্বালানির উৎস খোঁজার পাশাপাশি যেখানে সম্ভব, সেখানে ডিজেলের ব্যবহার কমানোর কৌশল নিতে হবে বিশ্বকে।

Share this news as a Photo Card