Dhaka ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনাম
‘পুরো পৃথিবী বিপক্ষে দাঁড়ালেও একসঙ্গে থাকব’, রাশমিকাকে নিয়ে বিজয় ‘২৭ ইয়ার্স অ্যাঙ্কর্ড ইন ট্রাস্ট’ প্রতিপাদ্যে এমটিবির ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন পঞ্চগড়ের দুই টাকার লাউ ঢাকায় ৬০ টাকা, কৃষকের ন্যায্যমূল্য কোথায়: আখতার হোসেন ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে ইয়ামাল, কেইন ও এমবাপে; এআইয়ের পূর্বাভাসে এগিয়ে কে? বিশ্বজুড়ে ডিজেলের সংকট, চাহিদা কমানোই দ্রুত সমাধান দেখছেন বিশেষজ্ঞরা সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজন হলে ক্রসফায়ারও করব’: আইজিপি দুই রেটিং পয়েন্ট হারাল বাংলাদেশ, ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে নবমেই টাইগাররা সাদিয়া আয়মানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল, বিচ্ছেদের কারণ জানালেন খায়রুল বাসার ওয়ালটনের ‘হাউসফুল অফার’, ফ্রিজ কিনে মিলতে পারে বিদেশ ভ্রমণসহ নানা উপহার ঢাকা-দাম্মাম ও ঢাকা-রিয়াদ রুটে বিমানের ফ্লাইট স্থগিত ৪ নভেম্বর পর্যন্ত

সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজন হলে ক্রসফায়ারও করব’: আইজিপি

পুলিশ কঠোর হলে তাকে ‘ফ্যাসিস্ট পুলিশ’ বলা হয়, আবার নীরব থাকলে বলা হয় ‘দুর্বল পুলিশ’। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে সরকার অনুমতি দিলে এবং প্রয়োজন হলে পুলিশ ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন ফকির।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর চকবাজারের শাহজাহান ইমাম টাওয়ারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘ব্যাংকিং খাতে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার তাগিদ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে আইজিপি ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন অনিয়ম এবং সুদের কুফল নিয়ে কথা বলেন।

তিনি বলেন, ইসলামে সুদ ও ঘুষ সম্পূর্ণ হারাম। প্রকৃত ইসলামিক ব্যাংকিং হতে হবে সম্পূর্ণ সুদমুক্ত। সেখানে অংশীদারত্ব, নৈতিকতা এবং ন্যায্য ব্যবসায়িক চর্চা ও স্বচ্ছ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

অতীতে ব্যাংকিং খাতে বিভিন্ন অনিয়ম, ব্যাংক দখল এবং উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার সমালোচনা করেন আইজিপি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভিশন ও মনিটরিং ঠিক না থাকলে যতই আইন থাকুক না কেন, তা কার্যকর হবে না। গ্রাহক ও বাস্তবায়নকারী উভয় পক্ষকেই নৈতিকতার জায়গায় থাকতে হবে।’

বর্তমান ব্যবস্থাপনার ওপর গ্রাহকদের পূর্ণ আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতে ঘটে যাওয়া কোনো অনিয়ম বা বিপর্যয় এখন আর ঘটার সুযোগ নেই। পাশাপাশি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) তদারকি আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পুলিশকে অকার্যকর করার কোনো চক্রান্ত বরদাশত করা হবে না উল্লেখ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর বার্তা দেন আইজিপি। তিনি বলেন, পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ শূন্য সহনশীলতার নীতিতে কাজ করছে।

পুলিশ সদস্যদের কেউ অপরাধ করলে তাঁকেও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদেরও চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স রয়েছে। কিন্তু কথায় কথায় পুলিশের ওপর চড়াও হওয়া বা পুলিশকে অকার্যকর করার চেষ্টা করা হলে সমাজব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।’

আইজিপি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে সরকার যদি অনুমতি দেয় এবং প্রয়োজন হয়, তবে আমরা ক্রসফায়ারও করব। পুলিশকে এমপাওয়ার না করলে এবং আইন প্রয়োগের সুযোগ না দিলে সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। গুজব ও মিথ্যা প্রচারণায় কান না দিয়ে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।’

গত ১৭ বছরে দেশকে অকার্যকর করে দেওয়া নেতৃত্বের সমালোচনা করে আইজিপি অভিযোগ করেন, ওই সময়েই পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিস্তার ঘটেছে। তাঁর ভাষ্য, তৎকালীন সরকারি দলের নেতারা মাদক থেকে মাসোহারা পেতেন এবং পুলিশের কিছু সদস্যও এতে জড়িত ছিলেন। তবে পুলিশ আগে নিজেদের বিভাগে শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত দুই মাসে ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সম্প্রতি পুলিশের সমালোচনা করে নাগরিক সমাজের দেওয়া একটি বিবৃতির প্রসঙ্গেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আইজিপি। তিনি বলেন, ‘১০১ জন নাগরিক বলছেন গোপনীয়তার কথা। আপনি কি পুলিশ হাউজিংয়ের ভেতরে গোপনে গিয়ে মদ খাবেন, মাতলামি করবেন, কোকেন-হিরোইন গ্রহণ করবেন? সংবিধানের কোথায় লেখা আছে যে এসব আপনার অধিকার? স্বাধীনতা আছে বলে যা ইচ্ছা তা করতে পারবেন না, আইনের আওতায় থাকতে হবে।’

পুলিশের যোগ্যতা নিয়ে সমালোচনার জবাবে আইজিপি বলেন, ‘আপনারা বলেন অশিক্ষিত পুলিশ নিয়োগ দেন, কনস্টেবলের আবার কি জ্ঞান লাগে? অথচ এই কনস্টেবলই তৃণমূল পর্যায়ে আপনাকে সেবা দিচ্ছে। ওর সঙ্গে ঝামেলা হলেই বলেন পুলিশ খারাপ। আবার নিয়োগের সময় বলেন শিক্ষিত লোকের প্রয়োজন নেই। কিন্তু পুলিশেই সবথেকে বেশি শিক্ষিত লোক দরকার, কারণ তাকে সমাজের সব শ্রেনির মানুষকে কন্ট্রোল করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ফেল করলে রাস্তায় পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদের মারামারি হয়, ইন্ডাস্ট্রিতে বেতন না দিলে শ্রমিকের মারামারি হয় পুলিশের সঙ্গে। পুলিশকে অকার্যকর করে সব দায় পুলিশের ওপর চাপানো যাবে না। সংবিধানে পুলিশের কাজের চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স রয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর পুলিশের ডিউটি করতে ভয় পাওয়ার যে পরিস্থিতি ছিল, সেখান থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুখী-সমৃদ্ধময় বাংলাদেশ গঠনের জন্য পুলিশ দিন-রাত কাজ করছে।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে আইজিপি অভিযোগ করেন, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চললেও সাংবাদিকদের অনেকে বিষয়গুলো এড়িয়ে যান এবং সেখান থেকে গোপনে টাকা নেন। তাঁর ভাষ্য, সাংবাদিকেরা সেখান থেকে অর্থ না পেলে লেখেন, ‘বাংলাদেশে পুলিশ অকার্যকর হয়ে গেছে’। তিনি বলেন, ‘কেন? আমরা কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন করি নাই। আমরা কোনো আনওয়ান্টেড ফোর্স এপ্লাই করি নাই।’

জুলাই অভ্যুত্থানের পর পুলিশের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে আইজিপি বলেন, তখন পুলিশ সদস্যরা রাস্তায় দায়িত্ব পালন করতে ভয় পেতেন, দায়িত্ব পালনে সাহস পেতেন না। সেই অবস্থা থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশে জনগণকে স্বস্তিদায়ক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দেওয়া এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুলিশ দিন-রাত কাজ করছে বলে জানান তিনি।

‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং সেবার পরিধি বাড়ানো এবং গ্রাহকদের জন্য আধুনিক বিকল্প ব্যাংকিং সুবিধা চালুর ক্ষেত্রে ‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর যাত্রা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।

Share this news as a Photo Card

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

‘পুরো পৃথিবী বিপক্ষে দাঁড়ালেও একসঙ্গে থাকব’, রাশমিকাকে নিয়ে বিজয়

25 October 2026

ঢাকা-দাম্মাম ও ঢাকা-রিয়াদ রুটে বিমানের ফ্লাইট স্থগিত ৪ নভেম্বর পর্যন্ত

www.hostbuybd.com

সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজন হলে ক্রসফায়ারও করব’: আইজিপি

Update Time : ০৬:৪২:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশ কঠোর হলে তাকে ‘ফ্যাসিস্ট পুলিশ’ বলা হয়, আবার নীরব থাকলে বলা হয় ‘দুর্বল পুলিশ’। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে সরকার অনুমতি দিলে এবং প্রয়োজন হলে পুলিশ ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন ফকির।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর চকবাজারের শাহজাহান ইমাম টাওয়ারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘ব্যাংকিং খাতে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার তাগিদ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে আইজিপি ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন অনিয়ম এবং সুদের কুফল নিয়ে কথা বলেন।

তিনি বলেন, ইসলামে সুদ ও ঘুষ সম্পূর্ণ হারাম। প্রকৃত ইসলামিক ব্যাংকিং হতে হবে সম্পূর্ণ সুদমুক্ত। সেখানে অংশীদারত্ব, নৈতিকতা এবং ন্যায্য ব্যবসায়িক চর্চা ও স্বচ্ছ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

অতীতে ব্যাংকিং খাতে বিভিন্ন অনিয়ম, ব্যাংক দখল এবং উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার সমালোচনা করেন আইজিপি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভিশন ও মনিটরিং ঠিক না থাকলে যতই আইন থাকুক না কেন, তা কার্যকর হবে না। গ্রাহক ও বাস্তবায়নকারী উভয় পক্ষকেই নৈতিকতার জায়গায় থাকতে হবে।’

বর্তমান ব্যবস্থাপনার ওপর গ্রাহকদের পূর্ণ আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতে ঘটে যাওয়া কোনো অনিয়ম বা বিপর্যয় এখন আর ঘটার সুযোগ নেই। পাশাপাশি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) তদারকি আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পুলিশকে অকার্যকর করার কোনো চক্রান্ত বরদাশত করা হবে না উল্লেখ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর বার্তা দেন আইজিপি। তিনি বলেন, পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ শূন্য সহনশীলতার নীতিতে কাজ করছে।

পুলিশ সদস্যদের কেউ অপরাধ করলে তাঁকেও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদেরও চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স রয়েছে। কিন্তু কথায় কথায় পুলিশের ওপর চড়াও হওয়া বা পুলিশকে অকার্যকর করার চেষ্টা করা হলে সমাজব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।’

আইজিপি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে সরকার যদি অনুমতি দেয় এবং প্রয়োজন হয়, তবে আমরা ক্রসফায়ারও করব। পুলিশকে এমপাওয়ার না করলে এবং আইন প্রয়োগের সুযোগ না দিলে সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। গুজব ও মিথ্যা প্রচারণায় কান না দিয়ে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।’

গত ১৭ বছরে দেশকে অকার্যকর করে দেওয়া নেতৃত্বের সমালোচনা করে আইজিপি অভিযোগ করেন, ওই সময়েই পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিস্তার ঘটেছে। তাঁর ভাষ্য, তৎকালীন সরকারি দলের নেতারা মাদক থেকে মাসোহারা পেতেন এবং পুলিশের কিছু সদস্যও এতে জড়িত ছিলেন। তবে পুলিশ আগে নিজেদের বিভাগে শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত দুই মাসে ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সম্প্রতি পুলিশের সমালোচনা করে নাগরিক সমাজের দেওয়া একটি বিবৃতির প্রসঙ্গেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আইজিপি। তিনি বলেন, ‘১০১ জন নাগরিক বলছেন গোপনীয়তার কথা। আপনি কি পুলিশ হাউজিংয়ের ভেতরে গোপনে গিয়ে মদ খাবেন, মাতলামি করবেন, কোকেন-হিরোইন গ্রহণ করবেন? সংবিধানের কোথায় লেখা আছে যে এসব আপনার অধিকার? স্বাধীনতা আছে বলে যা ইচ্ছা তা করতে পারবেন না, আইনের আওতায় থাকতে হবে।’

পুলিশের যোগ্যতা নিয়ে সমালোচনার জবাবে আইজিপি বলেন, ‘আপনারা বলেন অশিক্ষিত পুলিশ নিয়োগ দেন, কনস্টেবলের আবার কি জ্ঞান লাগে? অথচ এই কনস্টেবলই তৃণমূল পর্যায়ে আপনাকে সেবা দিচ্ছে। ওর সঙ্গে ঝামেলা হলেই বলেন পুলিশ খারাপ। আবার নিয়োগের সময় বলেন শিক্ষিত লোকের প্রয়োজন নেই। কিন্তু পুলিশেই সবথেকে বেশি শিক্ষিত লোক দরকার, কারণ তাকে সমাজের সব শ্রেনির মানুষকে কন্ট্রোল করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ফেল করলে রাস্তায় পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদের মারামারি হয়, ইন্ডাস্ট্রিতে বেতন না দিলে শ্রমিকের মারামারি হয় পুলিশের সঙ্গে। পুলিশকে অকার্যকর করে সব দায় পুলিশের ওপর চাপানো যাবে না। সংবিধানে পুলিশের কাজের চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স রয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর পুলিশের ডিউটি করতে ভয় পাওয়ার যে পরিস্থিতি ছিল, সেখান থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুখী-সমৃদ্ধময় বাংলাদেশ গঠনের জন্য পুলিশ দিন-রাত কাজ করছে।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে আইজিপি অভিযোগ করেন, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চললেও সাংবাদিকদের অনেকে বিষয়গুলো এড়িয়ে যান এবং সেখান থেকে গোপনে টাকা নেন। তাঁর ভাষ্য, সাংবাদিকেরা সেখান থেকে অর্থ না পেলে লেখেন, ‘বাংলাদেশে পুলিশ অকার্যকর হয়ে গেছে’। তিনি বলেন, ‘কেন? আমরা কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন করি নাই। আমরা কোনো আনওয়ান্টেড ফোর্স এপ্লাই করি নাই।’

জুলাই অভ্যুত্থানের পর পুলিশের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে আইজিপি বলেন, তখন পুলিশ সদস্যরা রাস্তায় দায়িত্ব পালন করতে ভয় পেতেন, দায়িত্ব পালনে সাহস পেতেন না। সেই অবস্থা থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশে জনগণকে স্বস্তিদায়ক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দেওয়া এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুলিশ দিন-রাত কাজ করছে বলে জানান তিনি।

‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং সেবার পরিধি বাড়ানো এবং গ্রাহকদের জন্য আধুনিক বিকল্প ব্যাংকিং সুবিধা চালুর ক্ষেত্রে ‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর যাত্রা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।

Share this news as a Photo Card